Saturday 26 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

স্বজন-পরিজনের কাছে ছুটছে মানুষ, যাত্রা এবার স্বস্তির

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৮ মার্চ ২০২৫ ১১:০৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রাম ব্যুরো: এক মাসের সিয়াম সাধনার পর অবশেষে এসেই গেল পবিত্র ঈদুল ফিতর, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। ঈদের ছুটি, সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটি- সব মিলিয়ে এবার টানা নয়দিন বন্ধ। এত লম্বা ছুটি যেন ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করে দিয়েছে ! ঈদ মানেই সম্মিলন, স্বজন-পরিজনের সঙ্গে। আর এই সম্মিলনের আশায় প্রতি বছরের মতো চট্টগ্রাম ছেড়ে নীড়ে ফিরছে মানুষ, যারা জীবিকার তাগিদে আছেন বন্দর নগরীতে।

দু’দিন ধরে দলে দলে ট্রেনে-বাসে চট্টগ্রাম নগরী ছাড়ছে মানুষ। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন- সবখানেই মানুষের ভিড়। প্রতিদিনের কর্মস্থলে পৌঁছানোর তাড়া, সংসারের নিত্য চাহিদা মেটানোর তাগিদ, যানজট, সড়কে দুর্ভোগসহ আরও নানা নাগরিক বিড়ম্বনা- সবকিছুকে আপাতত ছুটি দিয়ে মানুষ ছুটছে তার ঘরের পানে।

বিজ্ঞাপন

যাত্রীরা বলছেন, এবার ট্রেনের টিকিট পেতে বিড়ম্বনা ছিল না। ভাড়া কিছুটা বাড়তি নেওয়া হলেও বাসের টিকিটও মিলেছে। আর লম্বা ছুটি হওয়ায় ধাপে ধাপে মানুষ চট্টগ্রাম নগরী ছেড়ে যাচ্ছেন। এর ফলে মোটামুটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশেই হচ্ছে এবারের ঈদযাত্রা। প্রায় সবার চোখেমুখে আনন্দের ছটা।

সবকিছুকে আপাতত ছুটি দিয়ে বাড়ির পানে ছুটছে সবাই। ছবি: সারাবাংলা

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার পবিত্র ঈদুল ফিতর হতে পারে আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবার অর্থাৎ ৩১ মার্চ অথবা ১ এপ্রিল। তবে ঈদ যেদিনই হোক, বন্ধ থাকছে পুরো সপ্তাহ। কিছু বেসরকারি কলকারখানা-প্রতিষ্ঠান শনিবারও (২৯ মার্চ) খোলা থাকবে। তবে সার্বিকভাবে বন্ধ শুরু হয়ে গেছে আজ (শুক্রবার) থেকেই।

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সরকারি বন্ধ ছিল। এরপর বৃহস্পতিবার একদিন খোলার দিন গেছে। শুক্র-শনিবার আবারও সাপ্তাহিক বন্ধ। শনিবার বেসরকারিভাবে খোলার দিন হলেও কর্মজীবীদের অনেকেই বৃহস্পতিবার ও শনিবার ছুটি নিয়েছেন। এর ফলে চট্টগ্রামে এবার ঈদযাত্রা বলতে গেলে শুরু হয়েছে ২৬ মার্চের সকাল থেকেই। তবে মূল যাত্রা অর্থাৎ দলে দলে বাড়ি ফিরে যাওয়া শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) রাত থেকে।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর যাত্রীর সমাগম। তবে আগের মতো হুড়োহুড়ি কিংবা অস্বস্তির পরিবেশ দেখা যায়নি। বাস টার্মিনালগুলোতে, নগরীর প্রবেশপথগুলোতেও মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

পল্লী বিদ্যুত সমিতির কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম যাচ্ছেন কিশোরগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে। চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে চেপে বসেছেন ট্রেনে। নাঈম সারাবাংলাকে বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুতে আমরা কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহের ১৯ জন আছি। সবাই বাড়ি চলে যাচ্ছি। ৯ দিনের ছুটি পেয়েছি। মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে একসাথে ঈদ করবো, এটা সবচেয়ে বেশি আনন্দের।’

একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহআলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাড়ি নেত্রকোণা। আমার ছেলে বাড়িতে বসে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেটে দিয়েছে। এবার ট্রেনের টিকিট পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। এবারের যাত্রাটা ভালো হচ্ছে। বাড়িতে যেতে সমস্যা হচ্ছে না, এটাই বড় কথা।’

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা আঁখি সুলতানা বাসে যাচ্ছেন কুমিল্লা। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার হাজবেন্ড ও আমি চট্টগ্রামে ব্যাংকে চাকরি করি। দুই ছেলেকে নিয়ে আমরা আজ যাচ্ছি। আমার শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লায়, বাবার বাড়ি গাজীপুরে। ঈদটা শ্বশুরবাড়িতে করে ছুটির বাকি সময় বাবার বাড়িতে কাটাবো। লম্বা ছুটি হওয়ায় এবার সুবিধা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে গত ২৪ মার্চ। ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের যাত্রী পরিবহনের মধ্য দিয়ে এ ঈদযাত্রা শুরু হয়। তবে শুরুর দিন থেকে তিনদিন ধরে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের তেমন জটলা ছিল না।

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, ‘শুরুর দিকে ভিড় কম থাকলেও টানা বন্ধ শুরু হওয়ার পর চাপ বেড়েছে। ঈদ উপলক্ষে সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল করা হয়েছে। বিশেষ ট্রেন চলছে। যাত্রীর চাপ আছে, তবে এবার অস্বস্তিকর পরিবেশ নেই।’

ঈদে চট্টগ্রাম থেকে প্রতিদিন ট্রেনে করে ১৫ হাজার যাত্রী তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন বলে এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গত ১৪ মার্চ থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ৩১ মার্চ বিক্রি করা হবে ফিরতি যাত্রার ১ ও ২ এপ্রিলের টিকিট।

রেলস্টেশনে টহলে ব্যস্ত চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের পুলিশ টিম। ছবি: সারাবাংলা

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চট্টগ্রাম মহানগরীর জনসংখ্যা প্রায় পৌনে এক কোটি। এর বড় অংশ কর্মস্থলের কারণে চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করেন। চট্টগ্রাম বন্দর, সিইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেডসহ বিভিন্ন কল-কারখানায় কর্মরত লাখো শ্রমিক চট্টগ্রামের বাইরের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। শুক্রবার থেকে এসব শ্রমিকদের বড় অংশ চট্টগ্রাম ছাড়তে শুরু করেছেন।

আগের ধারাবাহিতা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরে অন্যান্য বিভাগের বাসিন্দারা মোটামুটি শুক্র-শনিবারের মধ্যেই বন্দরনগরী ছেড়ে যাবেন। আর চট্টগ্রামের আশপাশের জেলা এবং অভ্যন্তরীণ উপজেলার বাসিন্দারা শুক্র থেকে রোববারের মধ্যে নগরী ছাড়বেন।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাহমুদা বেগম সারাবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়িতে যেতে পারেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধমূলক ঘটনা বা বিড়ম্বনার শিকার না হন, সেজন্য আমরা রমজানের শুরুতেই প্ল্যান করেছি। রেলস্টেশন এবং বাস টার্মিনালগুলোতে আমাদের সার্বক্ষণিক টহল রয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশও নজরদারিতে রেখেছে।’

সারাবাংলা/আরডি/এসডব্লিউ
বিজ্ঞাপন

আরো