Wednesday 30 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দখল-দূষণে বৈরাণ এখন খাল, পোল্ট্রি বর্জ্যে বাড়ছে রোগব্যাধি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৬ এপ্রিল ২০২৫ ০৮:০০
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

টাঙ্গাইল: জেলার গোপালপুরে পোল্ট্রি শিল্পের বর্জ্যে বৈরাণ নদের জল দূষিত হয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। এরই মধ্যে পানি দূষিত হওয়ায় মরে যাচ্ছে মাছ। সেইসঙ্গে ছড়াচ্ছে রোগবালাই।

জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘৬৪ জেলার অভ্যন্তরীস্ত ছোট নদী, খাল, জলাশয় পুনঃখনন উপপ্রকল্প’র মাধ্যমে পাউবো ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নদের তলদেশ খনন করে। কিন্তু উজান ও ভাটিতে খনন হলেও পৌর শহর অংশে নদের তেমন সংস্কার হয়নি। ফলে শহরের অংশে নদটি এখন খাল।

ধোপাকান্দি থেকে পালপাড়া আনন্দময়ী দেব মন্দির পর্যন্ত দুই পাড়ের শতাধিক পোল্ট্রি ফার্ম পাইপের মাধ্যমে প্রতিদিনই বৈরাণে বর্জ্য ফেলছে। পোল্ট্রি বর্জ্যে মিথেন ও অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়। এতে বৈরাণের মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হচ্ছে। সেইসঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এর কারণে মশা-মাছি বাড়ায় রোগবালাইয়ের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাট বৈরাণ মহল্লার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদের কালচে জলে নামলে হাত-পা ও শরীর চুলকায়। চামড়া ফুলে ঘা হয়। দুই পাড়ের পোল্ট্রি বর্জ্য নদে ফেলায় জল বিবর্ণ ও বিষাক্ত হচ্ছে। নদে কোনো মাছ নেই। দূষিত জলের দুর্গন্ধে বাড়ি-ঘরে থাকা দায়।

গোপালপুর আনন্দময়ী দেবমন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রবীর চন্দ্র সারাবাংলাকে জানান, দেব মন্দিরে প্রতি দিন শত শত পূণ্যার্থী ও ভক্তরা আসেন। কিন্তু নদের বিষাক্ত জলের দুর্গন্ধে মন্দিরে টেকা দায়। নদের দুই পাড় জুড়ে ফেলা হয় ময়লা-আবর্জনা। পৌর প্রশাসনকে অভিযোগ দিলেও কাজ হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘দখল-দূষণে বৈরাণের মরণদশা। পোল্ট্রি খামার নদকে ধ্বংস করছে। নদের জল বিষাক্ত হচ্ছে। বাসিন্দারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোরশেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘পোল্ট্রি শিল্পের রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার আগে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার শর্ত দেওয়া হয়। কিন্তু খামার মালিকরা তা মানছেন না। পোল্ট্রি ফার্মগুলো দুর্গন্ধ ও রোগব্যাধি ছড়াচ্ছে। খামারিদের বার বার সতর্ক করেও কোনো কাজ হচ্ছে না।’

গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তুহিন হোসেন সারাবাংলাকে জানান, বৈরাণ নদকে দখল ও দূষণ মুক্ত করতে দ্রুতই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাবাংলা/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো