Monday 09 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন ধারার সিদ্ধান্ত, প্রশংসায় ভাসছেন তারেক রহমান

সৈয়দ আতিক
৮ মার্চ ২০২৬ ১৮:৩৫

দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন ধারার সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ধারাবাহিক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক সংস্কারের বার্তার কারণে তিনি একের পর এক প্রশংসায় ভাসছেন।

প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রীদের জন্য ১৮০ দিনের একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছেন। এর অর্থ দাঁড়ায়— এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রত্যেক মন্ত্রীর কাজ, দক্ষতা, বাস্তবায়ন ক্ষমতা এবং জনমুখী উদ্যোগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

১৮০ দিন আসলে একটি পারফরম্যান্স উইন্ডো— যার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে কে কতটা সফল, কে আংশিক সফল এবং কে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন, দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কিংবা কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে— অনেক মন্ত্রী আগের তুলনায় বেশি সক্রিয়। কেউ কেউ অতিরিক্ত মন্তব্য থেকে বিরত থাকছেন। অনেকে অত্যন্ত সতর্ক ভাষায় কথা বলছেন। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। কারণ সবাই বুঝতে পারছেন— প্রধানমন্ত্রীর একটি অনানুষ্ঠানিক ‘গুড বুক’ ও ‘ব্যাড বুক’ তৈরি হচ্ছে। এই গুড বুক ও ব্যাড বুক আসলে এক ধরনের রাজনৈতিক আমলনামা—যেখানে মন্ত্রীদের কার্যক্রম, শৃঙ্খলা, আনুগত্য, দক্ষতা এবং জনগ্রহণযোগ্যতার হিসাব সংরক্ষিত হচ্ছে।

ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, মন্ত্রীদের জন্য পারফরম্যান্স উইন্ডো

এই ১৮০দিন পর সেই পারফরম্যান্সের আলোকে নির্ধারিত হবে কার অবস্থান শক্ত হবে, আর কার অবস্থান নড়বড়ে হয়ে পড়বে। ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে ‑ অর্থাৎ প্রত্যেক মন্ত্রীর সামনে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা, যাতে তার দায়িত্ব পালন, শ্রদ্ধাশীল শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও জনগ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা হবে। এই সময়টা শুধু সময় নয়— এটা একটি কঠিন পারফরম্যান্স টেস্টের সময়ও বটে ।সবাইকে প্রতিদিন, প্রতিটি কাজ, প্রতিটি উদ্যোগ এবং জবাবদিহিতায় নিজেকে প্রতিপন্ন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ইন্ডিভিজুয়াল পলিসি এবং কর্মসম্পাদনায় পারফরম্যান্স‑স্পিরিট দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন— বলছেন এটি শুধু একটি সময়সীমা নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারের কার্যকর বাস্তবায়নের সুযোগ। সরকারের নতুন ১৮০‑দিনের কর্মপরিকল্পনা‑তে তিনটি প্রধান অগ্রাধিক্য নির্ধারণ করা হয়েছে- দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও গ্যাস‑বিদ্যুত সহ জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করা।

সরকার পরিচালনায় উদাহরণ স্থাপন মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে আসার পর অর্ধেক লাইট বন্ধ করে এসির মাত্রা কমিয়ে দপ্তরের বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুরু করেছেন। তিনি সচিবালয় থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে হেঁটে যাওয়া ও অনুষ্ঠান শেষে হেঁটে ফিরে আসার মাধ্যমে প্রথাগত ভিআইপি চলাচলের পরিবর্তন দেখিয়েছেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস করার প্রথা পুনঃপ্রবর্তন, গাড়িবহর কমানো এবং দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ রাখার ভিআইপি প্রথা বাতিল, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জোরদার করতে প্রশাসনিক বৈঠক করা, সরকারি ব্যয় সংকোচন, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ—এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনায় নতুন উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

রাস্তায় সাধারণ মানুষের মতো চলাচল করে তিনি দেখিয়েছেন, যে কোনো বিশেষ সুবিধার চাপে বা ভিআইপি প্রথার বোঝায় নয়। সাধারণ মানুষ সরাসরি তাঁকে দেখে হাত নেড়ে সালাম দিচ্ছেন, স্বাগত জানাচ্ছেন এবং এই বাস্তবমুখী নেতৃত্বে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। এই সরল, জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করার উদাহরণ মানুষের হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিচ্ছে এবং নতুন বার্তা দিচ্ছে— সরকারের কাজ কেবল কাগজে নয়, মানুষের জীবনে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

প্রশংসায় ভাসছেন রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথচলা, সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা এবং দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাকে ধীরে ধীরে একজন রাষ্ট্রনায়কের পর্যায়ে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাষ্ট্র পরিচালনার নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন— এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক ব্যয় কমানো, সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি বাড়ানোর মতো কিছু উদ্যোগ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তারেক রহমানের উত্থানও ছিল ধাপে ধাপে। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে তিনি প্রথমে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে করতে নেতৃত্ব ধরে রাখার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। পরবর্তীতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাকে আরও পরিণত রাজনৈতিক নেতৃত্বে রূপ দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক নেতা থেকে রাষ্ট্রনায়ক হয়ে যাওয়া তারেক রহমান এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তার নানা সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। সমর্থকদের মতে, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার প্রকৃত মূল্যায়ন নির্ভর করবে দীর্ঘমেয়াদে নেওয়া সিদ্ধান্ত ও সেগুলোর বাস্তব ফলাফলের ওপর।

লেখক: ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, সিটি নিউজ

সারাবাংলা/ইউজে/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর