Friday 13 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিএনপি’র ভূমিধস জয়
জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ

গোলাম সামদানী, হেড অব নিউজ
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৬

ঢাকা: দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উৎসবমুখর ও সহিংসতামুক্ত অবাধ-সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ভূমিধস বিজয় অর্জন করছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি’র প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও প্রত্যাশা যেমন প্রকাশ পেয়েছে। তেমনি দলটিকেও কঠিন পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দিয়েছে জনগণ। আর সেটা হলো বিএনপি’র প্রতি জনগণের এই ভালোবাসার প্রতিদান এবং প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে আগামী পাঁচ বছর দলটিকে কাজ করতে হবে, যাতে পাঁচ বছর পরেও জনগণ তাদের এই ভালোবাসা দলটির প্রতি বহাল রাখেন। কারণ, জুলাই সনদ ও আদালতের নির্দেশনা অনুয়ায়ী, পববর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে বিএনপিকে অতীথের ভুলত্রুটি মাথায় রেখে আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করবে- এটা আগে থেকেই সবার কাছে অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। তবে ২১২টি আসনে বিএনপি জোটের বিজয় প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা পাহাড়সম। এই নির্বাচনের বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে বিএনপি দল হিসাবে পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরবকার গঠন করে বিএনপি। একইসঙ্গে এই নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭৭টি আসনে বিজীয় হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানবিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জনগণ প্রত্যাশা করছে, সরকারি দল ও বিরোধীদল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেশ পরিচালনা করবে। কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে, সব দল দেশের স্বার্থে কাজ করবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। দলটি এবারই প্রথম বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমান বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। সব কিছু ঠিকটাক থাকলে তার মাধ্যমে বিএনপি দুই দশক পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর তারেক রহমান গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফেরেন। তিনি দেশে ফেরার ৫ দিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর তার মা বেগম খালেদা জিয়া মারা যান। পরে তারেক রহমান ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে প্রায় দুই দশক পর, অর্থ্যাৎ ২০০৬ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর বিএনপি আবার ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে।

শহিদ রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান হাত দিয়ে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর বিভিন্ন ঝড়-ঝাপটা মোকাবিলা করে বারবার দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি। একদল বিপদগামী সামরিক বাহিনীর সৈনিকের হাতে ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর ১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে রাজনীতিতে আসেন তার স্ত্রী বেগম খালেদ জিয়া। ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি দলের চেয়ারপারসন হন। রাজনীতির শুরু থেকে খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী। এবং পবর্তী সময়ে তিনি তিনবারের নির্বাচিত সফল প্রধানমন্ত্রী এবং দুইবারের প্রধান বিরোধীদলের নেত্রী নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির ওপর স্টিমরোলার চালায়। এর পর খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলে নেওয়া হয়। তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে ব্যাপক নির্যাতন চালিয়ে দেশ থেকে বিদেশ যেতে বাধ্য করা হয়। লাখ লাখ নেতাকর্মীদের নামে মিথা মামলা-হামলা করা হয়, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুম করা হয়। তারপরও তারকে রহমানের হাত ধরে বিএনপি আরও শক্তিশালী হয়েছে। তার নেতৃত্বে ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১২টি আসন নিয়ে সবদলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেন। এর মধ্যে দিয়ে রাজনীতিতে তারেক রহমানের দূরদর্শিতা প্রমাণ করেছে।

বিএনপি সরকারের কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশা

বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার মাধ্যমে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এই অবস্থায় বিএনপির কাছে জনগণের অন্যতম প্রত্যাশা থাকবে, গত দেড় বছরের মতো আগামী দিনেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, সন্ত্রাস চাঁদাবাজদের কঠোর হস্তে দমন করা, ঋণখেলাপীদের কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়া, দেশের অর্থনীতির গতি ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। দল-মত নির্বিশেষে সব ক্ষেত্রে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। এ ছাড়া, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও বিগত ১৬ বছরে গুম-খুন মিথ্যা মামলা ও হয়রানির বিচার নিশ্চিতের প্রত্যাশাও থাকবে সরকারের কাছে। পাশাপাশি সৎ যোগ্য ও মেধাবীদের মাধ্যমে মন্ত্রিসভা গঠন করবে বলে বিশ্বাস আমাদের।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল

সদ্য সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেবি) একটি, গণসংহতি আন্দোলন একটি, গণঅধিকার পরিষদ একটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দু’টি, খেলাফত মজলিশ একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন সাতটি আসনে।

১৩টি সংসদ নির্বাচনে কোন দল কতবার ক্ষমতায় এসেছে

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১৩টি সংসদ নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, ২০০৮ সালে নবম সংসদ, ২০১৪ সালে দশম সংসদ, ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ এবং ২০২৪ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) হয়। ফলে স্বাধীনতার ৫৫ বছরে আওয়ামী লীগ ছয় বার, বিএনপি ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে, দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করে। এরপর ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে এবং ২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠন করেন। সদ্য সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিএনপি পঞ্চম বারের মতো সরকার গঠনের পথে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ ১৯৮৬ সালের ৭ মে তৃতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।

বিজ্ঞাপন

‎সরাসরি ভোটে এমপি হলেন ৭ নারী
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩৫

সিলেটে জামানত হারালেন ২০ প্রার্থী
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০৭

আরো

সম্পর্কিত খবর