শতবছরের ঐতিহ্য আর লোকজ সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় পুরান ঢাকায় উদযাপিত হলো ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন বা পৌষসংক্রান্তি উৎসব। বাংলা বছরের পৌষ মাসের শেষ দিনে পালিত এই উৎসব পুরান ঢাকার মানুষের কাছে পারিবারিক বন্ধন, শিকড়ের টান ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। সাকরাইন উপলক্ষ্যে ভোর থেকেই পুরান ঢাকার অলিগলি ও বাড়ির ছাদে শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। সকাল গড়াতেই শিশু-কিশোরদের হাতে দেখা যায় রঙিন ঘুড়ি ও নাটাই। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ ভরে ওঠে চোখদার, রকদার, মাছলেজা, চানতারা, ফিতালেজা ও বক্স ঘুড়িতে। পাশাপাশি আধুনিক নকশার প্রজাপতি, ঈগল, পঙ্খীরাজ ও লাভ কাইটও নজর কাড়ে। এদিকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা যায়। শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর, নবাবপুর, লক্ষ্মীবাজার, গেন্ডারিয়া, লালবাগ, চকবাজার, সদরঘাট ও ধুপখোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির ছাদে বাঁশের কাঠামো ও অস্থায়ী বক্স তৈরি করে পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়স্বজন একসঙ্গে ঘুড়ি ওড়ান। সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সাকরাইন পুরান ঢাকার মানুষের জীবনে এক আবেগের নাম। ঘুড়ির সুতোয় বাঁধা এই উৎসব আজও স্মৃতি, ঐতিহ্য আর প্রজন্মের বন্ধনকে একসূত্রে গেঁথে রাখছে। আজ পুরান ঢাকা ঘুরে সাকরাইন উৎসবের ছবিগুলো ফ্রেমবন্দি করেছেন সারাবাংলার সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান।
ঐতিহ্য ও প্রজন্মের বন্ধন সাকরাইন [ছবি]
সারাবাংলা/পিটিএম