ঢাকা: বাংলাদেশি প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে ভারত ও নেপালের প্রবাসী শ্রমিক ব্যবস্থাপনা থেকে শিক্ষণীয় মডেল অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। একই সঙ্গে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ফালতু ডিজিটাল নিবন্ধনের নামে হয়রানি বন্ধ এবং ঘুষভিত্তিক কার্ড প্রথা আমূল সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।
সোশ্যাল মিডিয়ার ঐ বার্তায় এনসিপি নেতা জানান, বিএমইটি কার্ড বরাদ্দ গত এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকলেও পেছনের দরজায় বেশি টাকায় সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান সরকারের আমলেও দুর্নীতি ও ঘুষের এই প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকায় সাধারণ মানুষ ক্লিয়ারেন্স কার্ড পাচ্ছে না এবং আন্দোলনের পথ বেছে নিচ্ছে। এই ধরনের ভোগান্তি থেকে প্রবাসীদের মুক্তি দিতে প্লাস্টিক কার্ড নির্ভর ব্যবসায়িক প্রথা বন্ধ করে সার্বিক ডেটাবেজ গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্টের তথ্যের সাথে আধুনিক প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় এপিআই যুক্ত করে তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের সঠিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা সনদ, কর্ম দক্ষতা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ভিসা প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ অনলাইন যাচাই দরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষা বোর্ডের ডেটা, টিটিসি সার্টিফিকেট ও মেডিকেল রিপোর্ট সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে যাচাই করা গেলে কোনো হার্ডকপি সনদের প্রয়োজন পড়ে না।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে দশম শ্রেণি পার করা নাগরিকদের জন্য কোনো বাড়তি ইমিগ্রেশন ছাড়পত্রের দরকার পড়ে না। একইভাবে ২০১৫ সাল থেকে নেপাল প্রবাসীদের জন্য বিনা খরচে ভিসা ও টিকিটের কার্যকর সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর বরাতে তিনি দেখান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অভিবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশী কর্মীদের গড়ে চার লাখ ১৭ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে থাকে। অথচ আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের দেশের প্রবাসী অভিবাসন ব্যয় সবচেয়ে বেশি। বিমানবন্দরে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করতে অবিলম্বে বিএমইটিকে কেবল সাধারণ নিবন্ধক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন এই আইনপ্রণেতা।