Sunday 11 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘ভয় পাইছে’ বলতেই পলককে থামালেন ট্রাইব্যুনাল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৩৬

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক – সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দি থেকে একটি অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে সাক্ষীর উদ্দেশে করে ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় তাকে থামিয়ে কথা কম বলতে বলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। এদিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে মামলায় দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর কর্মকর্তা মাহদী আমিন।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাক্ষীকে একটি বক্তব্য ভূতাপেক্ষ কি না, তা জানতে চান। প্রথমে উত্তর দিতে না চাইলেও পরে সাক্ষী বলেন, বক্তব্যটি ভূতাপেক্ষ হবে।

এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রসিকিউশনের উদ্দেশে পলক বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে। ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে এখানে আসিনি।’

এর জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আসামিপক্ষে আইনজীবী রয়েছেন। কোনো বক্তব্য থাকলে তারা তা উপস্থাপন করবেন। অনুমতি ছাড়া কোনো আসামি এভাবে কথা বলতে পারেন না- বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় সংশ্লিষ্ট আইন দেখানোর কথাও বলেন প্রসিকিউটর।

তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন, কথায় কথায় আইন দেখানো হচ্ছে কেন।

বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনেন প্রসিকিউটর তামিম।

ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, আসামিপক্ষ সত্যিই এমন কথা বলেছে কি না। এ ধরনের মন্তব্য আপত্তিকর বলেও উল্লেখ করেন বিচারক।

জবাবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, প্রসিকিউশন কোনো বিষয়ে বক্তব্য তুললে আসামি বা তার আইনজীবীরাও আপত্তি জানাতে পারেন।

এ সময় প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আদালতে কথা বলতে হলে অনুমতি নিতে হবে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়, প্রসিকিউটর মাঝেমধ্যে ক্ষিপ্ত হয়ে যান।

পরে পলকের উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘রেগে গেলেন তো, হেরে গেলেন।’ কথা বলতে চাইলে অনুমতি নিতে হবে বলেও নির্দেশনা দেন বিচারক।

জবাবে পলক বলেন, ‘অযৌক্তিক তো কিছু বলিনি।’

তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘এখানে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। কেউ কোনো কিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না।’

এরপর আবার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একপর্যায়ে সাক্ষী মাহদী আমিন জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি)-এর তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান-এর প্রসঙ্গ তোলেন।

সাক্ষীর জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসির কার্যালয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক-এর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে জিয়াউল আহসান-কে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে এ বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে আপত্তি জানায় প্রসিকিউশন। তাদের বক্তব্য, বিষয়টি আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এলেও মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। এ কারণে ওই অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন জানান তারা। সাক্ষীও প্রসিকিউশনের বক্তব্যে সম্মতি দেন।

এ সময় কাঠগড়ায় থাকা পলক সাক্ষীর উদ্দেশে বলেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’

তখন ট্রাইব্যুনাল তাকে থামিয়ে বলেন, ‘একটু বসতে পারেন। কথা কম বলেন দয়া করে।’

পরে অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুমতি চাই। প্রসিকিউটর মহোদয় সাক্ষীকে প্রশ্ন করে জবানবন্দি নিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এটা বাদ দিতে হলে হোস্টাইল করতে হবে।’

জবানবন্দিতে সাক্ষী আরও বলেন, সারাদেশে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এনটিএমসির নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়েছিল। তবে সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে তিনি নিজে জানেন না। ২৮ জুলাইয়ের বৈঠকের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে জানতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মামলায় পলকের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী লিটন আহমেদ।
অন্যদিকে, পলাতক থাকায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পেয়েছেন আইনজীবী মনজুর আলম। তারা দুজনই ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান পলক। এর পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সদস্যরা হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়া এবং হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগও রয়েছে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় রাসেল ও মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন নিহত হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে।

গত ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর