ঢাকা: দীর্ঘ ১৭ বছর বিদেশে অবস্থান করা সত্ত্বেও প্রবাস জীবনের নানা বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্য থেকে বিএনপির কার্যকরী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ‘দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে মানবিক সংগঠন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনকে দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত করা সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসা সুবিধা প্রদান, দুর্ঘটনায় পঙ্গু ব্যক্তিদের কৃত্রিম পা সংযোজন, দেশব্যাপী পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং যেকোনো জাতীয় দুর্যোগে মানুষের কাছে নিরবচ্ছিন্ন ত্রাণ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই এই মানবিক প্রতিষ্ঠানের আসল পরিচয় ও সাফল্য।’
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করার পর রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন কেবল জাতীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং দেশের একদম প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে। করোনা মহামারি, অতিবৃষ্টি, বন্যা কিংবা কনকনে শীতের প্রকোপ প্রতিটি জাতীয় সংকটে প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দিয়েছেন এবং মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কঠিন সময়েও এই সংগঠনটি তরুণ ও কিশোরদের বিজ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে অনলাইনে সাইন্স এক্সিবিশনসহ নানামুখী ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যাওয়া মানুষকে কৃত্রিম পা সংযোজন, দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার মতো অসংখ্য মানবিক ও জনকল্যাণমুখী কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।’
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে রাজধানীর এই ঐতিহাসিক পবিত্র স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ মাজার জিয়ারত কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মাজার জিয়ারতের এই অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সম্মানিত নির্বাহী পরিচালক চিকিৎসাবিদ ড. ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ দেশের প্রখ্যাত সম্মানিত শিক্ষক, নিবন্ধিত প্রকৌশলী, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও বিশিষ্ট পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন প্রক্রিয়া শেষে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও চিরশান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত সম্পন্ন করা হয়।