Sunday 25 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

১৭২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, আনিসুল হকের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:০৪

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক – সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক-এর বিরুদ্ধে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় চার্জশিট আমলে নিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির চার্জশিট আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

দুদক-এর পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মামলাটি এখন বিচারের জন্য প্রস্তুত। এদিন কারাগারে থাকা আনিসুল হক-কে আদালতে হাজির করা হয়। তবে মামলার অপর তিন আসামি আনিসুল হক-এর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেসা বেগম হক, ভাগ্নে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবাল পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

এর আগে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তারও আগে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

দুদক-এর অনুসন্ধানে আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর বিপরীতে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা। ফলে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকা।

দুদক-এর তদন্তে আনিসুল হকের নিজ নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

তাদের মধ্যে জেবুন্নেসা বেগম হক-এর নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম-এর নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং মোহাম্মদ ইকবাল-এর নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, জেবুন্নেসা বেগম হক-এর নামে সিটিজেনস ব্যাংকের ১০ কোটি টাকার শেয়ার ও ১৩ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে। শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম-এর নামে একই ব্যাংকের ২০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার এবং মোহাম্মদ ইকবাল-এর নামে ৪০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ারের তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, আনিসুল হক ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। এর মধ্যে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আনিসুল হক, জেবুন্নেসা বেগম হক, শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইকবাল-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর