ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান কমিশন রাজনৈতিক চাপের কাছে অসহায়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশন কাজ করতে পারছে না।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এ নির্বাচনে আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে বলেছিলাম। পুলিশ দ্বারা এ নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না ইসিকে আমরা বলেছি। ইসি বলেছে সেনাবাহিনী এ নির্বাচনে প্রয়োজন নাই। বর্তমান কমিশন রাজনৈতিক চাপের কাছে অসহায়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচন করার জন্য এখনো মাঠে আছি। আমরা নির্বাচন করতে চাই। তবে সেই পরিবেশ আমাদের প্রয়োজন। ইসি বলেছে আমরা আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে প্রশাসন নিরেপক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। আমাদের কোনো অভিযোগ তারা আমলে নিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সরজমিন তথ্য উপাত্ত নিয়ে সুনির্দিষ্ট ৯টি অভিযোগ সিইসির কাছে দাখিল করেছি। একই সঙ্গে ৩টি দাবিও জানিয়েছি। অভিযোগের সব প্রকার প্রমাণ আমার দিয়েছি।
জামায়াতের অভিযোগগুলো হচ্ছে-
১. রঙিন প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনী আচরণবিধি সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
২. হিন্দু ভোটার ও সরকারি চাকরিজীবীদের হুমকি দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
৩. নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী দুপুর ২টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও এ সময়ের মধ্যে মাইক ব্যবহার করে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
৪. নির্বাচনী বিধিমালায় ভোটারদের কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া নিষিদ্ধ থাকলেও মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে ভোটারদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
৫. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকলেও মসজিদে সোফা সেট স্থাপন করে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
৬. ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করা এবং ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ্যে ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি জামায়াতের।
৭. গত ২২ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও পৌরসভার আদর্শ স্কুলের সামনে ভোটারদের সঙ্গে গণসংযোগের সময় ওই স্কুলের শিক্ষক আক্কাস আলী জামায়াতের চার নারী কর্মীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হেনস্তা করেন। এ সময় তিনি জামায়াতের প্রার্থী সম্পর্কেও কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
৮. গত ২৪ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও পৌরসভার হাজীপাড়ায় আমানতুল্লাহ ইসলামী একাডেমির পাশে জামায়াতের নারী কর্মী সায়মা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে নির্বাচনী কাজে বের না হওয়ার হুমকি দেন পার্শ্ববর্তী এলাকার বিএনপি নেতা ফরহাদ হোসেন। তাঁর বাবার নাম মৃত বজলার রহমান।
একই দিন ভূল্লী উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নে জামায়াতের ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাসুদ রানার দোকানের সামনে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুলতান, বাবুল ও এক ভ্যানচালকের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁদের আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাদ্দাম, ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাহফুজ, তাঁতী দলের জেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেন (বাবুল মাস্টার), ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের নাঈমের বিরুদ্ধে। আহত ব্যক্তিরা সবাই ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বেংরোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কুতপার হাট ভোটকেন্দ্রের পাশে জামায়াতের কর্মীদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে বিএনপি কর্মী মাজেদুর রহমান, যুবদল সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, যুবদল নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ এবং সাজুর বিরুদ্ধে। অভিযোগে তাঁদের বাবার নামও উল্লেখ করা হয়েছে। মাজেদুর রহমানের বাবার নাম মৃত দফির উদ্দীন, মোফাজ্জল হোসেনের বাবার নাম আব্দুর রহিম এবং সাজুর বাবার নাম ফজলু।
৯. রুহিয়া উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের চতুরাখোর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায় জামায়াতের অসংখ্য ব্যানার কেটে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে জনি পারভেজ মেম্বারের বিরুদ্ধে। তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার স্বার্থে দলটি তিনটি দাবি জানিয়েছে। এগুলো হচ্ছে-
১. উল্লিখিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া;
২. ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা ;
৩. সংশ্লিষ্ট ইউএনও’র নিরপেক্ষতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।