Thursday 05 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মানবিক বাংলাদেশ গড়তে শিশু সুরক্ষায় যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে: ডেপুটি স্পীকার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:৫৫

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত “শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস”-এর প্রথম বৈঠক আজ জাতীয় সংসদ ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ককাস সভাপতি সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ  বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ককাস-এর পৃষ্ঠপোষক ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি ককাস-এর এ সময়োপযোগী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশু অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দেশে শিশু অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে বহু আইন বিদ্যমান থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে আইন, বাজেট এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তিদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শিশু অধিকার বিষয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা বাড়াতে সরকারের প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ডেপুটি স্পীকার বলেন, শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দলমত, শ্রেণি-পেশা কিংবা সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলের কোনো ধরনের বিভাজন থাকা উচিত নয় এবং প্রতিটি শিশুর সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার অত্যন্ত আন্তরিক এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সংসদ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। ককাসের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়ে তিনি শিশু অধিকার-সংক্রান্ত প্রস্তাবিত ও খসড়া আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন কিংবা নির্বাহী বিভাগে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে সংসদ সদস্যরা যাতে বেসরকারি বিলের মাধ্যমেও বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে সংসদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

একই সঙ্গে ডেপুটি স্পীকার নির্বাহী বিভাগকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে ককাসের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশে এ ধরনের সংসদীয় ককাসকে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে সমন্বিত টিম হিসেবে কাজ করার পরামর্শ দেন। তিনি পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ককাসের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন এবং উপস্থিত ককাস সদস্য ও অংশীজনদের জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশন সরাসরি প্রত্যক্ষ করার আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে ককাসের অন্যান্য সদস্য মোরশেদ মিলটন এমপি, এ কে এম ফজলুল হক মিলন এমপি, শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, আন্না মিন্জ এমপি এবং মাধবী মার্মা এমপি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

– ছবি : সংগৃহীত

বৈঠকের শুরুতে ককাসের সভাপতি শিরীন সুলতানা এমপি তাঁর স্বাগত বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যকর কার্যক্রম গ্রহণ করেছে এবং এসব কার্যক্রমের সুফল যেন সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বৈঠকে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশু-বান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সংসদীয় উদ্যোগ জোরদারকরণ, নীতি-আলোচনা পরিচালনা, মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন সমন্বিত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয় যে শিশু অধিকার সুরক্ষায় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্র হিসেবে কন্যাশিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশু, পাহাড়ি অঞ্চলের শিশু এবং অসহায়, এতিম ও দুস্থ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি তাদের মধ্যে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসন সম্পর্কে যথাযথ শিক্ষা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উক্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ও প্রতিনিধিবৃন্দ, ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।