শুরুটা করেছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। ইমন বেশিক্ষণ টিকতে না পারলেও পরে ব্যাটে ঝড় তোলেন অধিনায়ক লিটন কুমার দাস ও সাইফ হাসান। যাতে নেদারল্যান্ডসকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ১৩.৩ ওভারেই নেদারল্যান্ডসের দেওয়ার ১৩৬ রানের টার্গেট পেরিয়ে গেছে বাংলাদশে। তাসকিন আহমেদের দাপুটে বোলিংয়ে আগে বোলিং করতে নামা বাংলাদেশ ডাচদের আটকে দেয় ১৩৬ রানেই। তাসকিন একাই নেন চার উইকেট।
এমন দাপুটে জয়ে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ মাঠে গড়াবে ১ সেপ্টেম্বর।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের ১৩৬ রানের জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছে উড়ন্ত। ইনিংসের প্রথম তিন বলে দুটি চার, একটি ছক্কা হাঁকান তরুণ ওপেনার। ইমন ঝড় অবশ্য লম্বা হয়নি। ৯ বলে ১৫ রান করে সরাসরি বোল্ড হয়েছেন।
অপর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম অনেকক্ষণ ক্রিজে ছিলেন। তবে টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করতে পারেননি। অবশ্য দুই ওপেনারের ব্যর্থতা টেরই পেতে দেননি লিটন দাস ও সাইফ হাসান।
লিটন ক্রিজে নামার পর থেকেই চালিয়ে খেলেছেন। দারুণ ব্যাটিংয়ে ২৯ বলে ৬টি চার ২টি ছক্কায় ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক। প্রায় দুই বছর পর জাতীয় দলে ডাক পাওয়া সাইফ হাসান বল হাতে দুটি উইকেট এনে দেওয়ার পর ব্যাট হাতেও দাপট দেখিয়েছেন।
তানজিদ তামিম ২৪ বলে ২৯ রান করে ফেরার পর ক্রিজে নেমে প্রথম ৭ বলে ৪ রান করেছিলেন সাইফ। তবে তারপর ব্যাটে রীতিমতো ঝড় তোলেন। মাত্র ১৯ বলে ১টি চার ৩টি ছক্কায় শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩৬ রানে। ১৩.৩ ওভারে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়েছে তার ছক্কাতেই।
এর আগে বল হাতেও দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারে বেশ ভালো বোলিং করেছেন শেখ মাহেদি হাসান। তবে দ্বিতীয় ওভারে বোলিং করতে এসে তিন বাউন্ডারি হমজ করেন শরিফুল ইসলাম।
শরিফুলকে সরিয়ে তাসকিন আহমেদের হাতে বল তুলে দিতেই উইকেট পেয়েছে বাংলাদেশ। নিজের করা প্রথম বলেই দারুণ খেলতে থাকা ম্যাক্স ও’ডাউডকে ফেরান তাসকিন। ফেরার আগে ১৫ বলে ২৩ রান করে ডাচ ওপেনার।
অষ্টম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে ফের উইকেট পান তাসকিন। এরপর প্রায় দুই বছর পর জাতীয় দলে ফেরা সাইফ হাসানের হাতে বল তুলে দিয়েও সাফল্য পেয়েছেন লিটন। দুই ওভারে ১৮ রান খরচ করলেও দুটি উইকেট এনে দিয়েছেন সাইফ।
নেদারল্যান্ডস ৮৬ রানে হারায় পঞ্চম উইকেট। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। মোস্তাফিজুর রহমান পুরো চার ওভার ধরেই বোলিং করেছেন দুর্দান্ত। ডাচ ব্যাটারদের ক্রিজে আটকে রেখেছেন বাংলাদেশি পেসার।
সব মিলিয়ে বেশিদূর এগুতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রানে আটকে গেছেন ডাচরা।