বিতর্কিত মন্তব্য করা বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ডাক দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। এসব নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে তুলকালাম চলছে। এদিকে, নাজুলকে সব দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, নাজমুলকে সব ধরনের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক ভার্চ্যুয়াল মিটিংয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, বিসিবির অর্থ কিমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাজমুল ইসলাম।
গতকাল ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন এম নাজমুল ইসলাম। রাতে ক্রিকেটারদের স্বার্থ রক্ষার সংগঠন কোয়াবের সভাপতি ঘোষণা দেন, নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সবধারনের ক্রিকেট বয়কট করলেন তারা। সে অনুযায়ী আজ বিপিএলের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়ায়ওনি। মাঠেই যাননি ক্রিকেটাররা।
এদিকে, দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পদত্যাগ না করা পর্যন্ত মাঠে না ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় তারা। এর কিছুক্ষণ পরই নাজমুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা জানা যায়।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত যদি বিশ্বকাপ খেলা না হয় তাহলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে অর্থ দেওয়া হবে কিনা, এমন প্রশ্নে বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম গতকাল বলেন, ‘ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পেছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি!’
ক্রিকেটাররাই ক্রিকেট বোর্ডের সবচেয়ে বড় স্টোকহোল্ডার, এমন কথা স্মরণ করিয়ে দিলে নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘ধরুন বোর্ডটাই যদি না থাকে, তাহলে ক্রিকেট মানে ক্রিকেটাররা থাকবে কি না!’ বিশ্বকাপ না খেললে কী এমন ক্ষতি হবে। এসব মন্তব্য করেন নাজমুল ইসলাম।
পরে তার পদত্যাগের দাবি তোলেন ক্রিকেটাররা। এর আগে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছিল এম নাজমুল ইসলাম। তামিমকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন।
রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে মিঠুন বলেছিলেন , ‘উনি যেভাবে আমাদের সব ক্রিকেটারকে নিয়ে মন্তব্য করেছেন, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তো উনি যদি আগামীকাল ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বয়কট করব।’