দেশের জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বেতন কাঠামো ও ‘ক্রীড়া কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই অঙ্গীকার সামনে রেখে ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ক্রীড়া উন্নয়নের দর্শনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আরও আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় আন্তর্জাতিক মানের ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ শুরু হবে। এছাড়া ২০২৭ সাল থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার আর্থিক পুরস্কার প্রদান করা হয়। একক ইভেন্টে স্বর্ণজয়ীদের ৩ লাখ, রৌপ্যজয়ীদের ২ লাখ এবং ব্রোঞ্জজয়ীদের ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়। দলগত ইভেন্টে যথাক্রমে ২ লাখ, দেড় লাখ ও ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়া ক্রীড়া ভাতার আওতায় প্রত্যেক ক্রীড়াবিদকে মাসিক ১ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ক্রীড়া কার্ড’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া শিক্ষা বিস্তারে প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোতে থাকা বিকেএসপির সাতটি শাখাকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।