আগে বোলিং করে সফরকারী নিউজিল্যান্ডকে ২৪৭ রানেই আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ। আধুনিক ওয়ানডেতে এটা মোটেও বড় স্কোর নয়। তবুও জিততে পারল না বাংলাদেশ। একটা সময় ২ উইকেটে ১৪৪ রান তোলা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ২৬ রানে ম্যাচ হেরেছে।
শেষ দিকে টপাটপ উইকেট হারিয়ে ২২১ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এই হারে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ১-০তে পিছিয়ে পরল স্বাগতিকরা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের ২৪৭ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুতে বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে পর পর দুই বলে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে এই ধাক্কা পরে ভালোভাবেই কাটিয়ে তোলেন অপর ওপেনার সাইফ হাসান ও লিটন দাস।
অনেকদিন অফ ফর্মে থাকা সাইফ হাসান এই সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেই ফর্মটাই যেন টেনে আনলেন মূল ম্যাচে! শুরুতে একটা ‘জীবন’ পাওয়া সাইফ হাসান লিটন দাসকে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে দারুণ ব্যাটিং করেছেন।
ফিফটির পর অবশ্য বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি ক্রিজে। দলীয় ১১৪ রানের মাথায় ক্যাচ আউট হয়ে ফিরেছেন সাইফ। ফেরার আগে তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। ৭৬ বল খেলে ৮টি চার ১টি ছয়ে ৫৭ রান করে ফেরেন সাইফ। খানিক বাদে ফক্সক্রফটের দারুণ এক অফস্পিনে সরাসরি বোল্ড হয়েছেন লিটন দাস। লিটন ফিরেছেন ৬৮ বল খেলে ৩টি চারে ৪৬ রান করে।
পরপর দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাওহিদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন ধ্রুবর ওপর। অনেকদিন পর জাতীয় দলে ডাক পেয়ে পাকিস্তান সিরিজে রান পাননি আফিফ। আজ বড় সুযোগ ছিল তার সামনে। যখন ব্যাট করতে নেমেছিলেন রানরেটের চাপও ছিল না। ম্যাচ জেতানোর দারুণ সুযোগ ছিল সামনে। কিন্তু আফিফ মন্থর ব্যাটিংয়ে দলকে আরও বিপদে ফেলে আউট হয়েছেন। ৪৯ বলে শেষ পর্যন্ত ২৭ রান করে ফিরেছেন আফিফ।
সাত নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। ফিরেছেন ১৩ বলে ৭ রান করে। যাতে আরও বিপদে পরে বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় অবশ্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছেন। তবে তাকে কেউই সঙ্গ দিতে না পারাতে সেই চেষ্টা কাজে লাগেনি।
শেষ পর্যন্ত ৪৮.৩ ওভার ২২১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ২টি করে চার-ছয়ে ৫৫ রানে আউট হয়েছেন।
এর আগে শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেনদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আগে বোলিং করে নিউজিল্যান্ডকে ২৪৭ রানেই আটকে রাখে বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশি বোলারদের টাইট বোলিংয়ের বিপক্ষে শুরুতে দেখেশুনে এগিয়েছেন কিউইরা। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন শরিফুল ইসলাম।
ইনিংসের সপ্তম ওভারে উইকেট এনে দেন পিএসএলে দুর্দান্ত বোলিং করে আসা শরিফুল। তার লেংথ বলে পুল করতে গিয়ে বল স্ট্যাম্পে টেনে আনেন নিক কেলি (৭)। দ্বিতীয় উইকেটে শক্ত একটা জুটি গড়ার চেষ্টা করেছেন হেনরি নিকোলাস আর উইল ইয়ং। দলীয় একশর কাছাকাছি গিয়ে ৩০ রান করা ইয়ংকে ফিরিয়ে এই জুটি ভেঙেছেন রিশাদ হোসেন।
এরপর অধিনায়ক টম লাথামকে দ্রুতই ফিরয়েছে বাংলাদেশ। দলীয় ১২৭ রানের মাথায় লাথামকে সরাসরি বোল্ড করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। খানিক বাদে সবচেয়ে বড় বাঁধা হেনরি নিকোলাসকে ফেরান রিশাদ। রিশাদকে সুইপ খেলতে গিয়ে মাথার ওপর ক্যাচ তুলে দেন নিকোলাস। লিটন দাস সহজেই তা লুফে নিলে ৯ চারে ৮৩ বলে ৬৮ রানে ইনিংসটি সেখানেই থেমে যায়।
দলীয় ১৬৫ রানের মাথায় মুহাম্মদ আব্বাসকে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডের চাপ বাড়িয়েছেন শরিফুল ইসলাম। দারুণ এক সুইং বলে আব্বাসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়েছেন শরিফুল।
ইনিংসের শেষভাগে বেশ ভালো খেলছিলেন ডিন ফক্সক্রফট। নাহিদ রানা ৪৭তম ওভারে সরাসরি বোল্ড করিয়ে তাকে ফিরিয়েছেন। ফেরার আগে ৫৮ বলে ৮ চারে ৫৯ রান করেন ফক্সক্রফট। শেষ দিকে আর সুবিধা করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড।
৫০ ওভারে ৮ উইকেটে শেষ পর্যন্ত ২৪৭ রানে থেমেছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের হয়ে শরিফুল ইসলাম ১০ ওভারে ২৭ রান খরচায়, রিশাদ হোসেন ১০ ওভারে ৪৪ রান খরচায় ও তাসকিন আহমেদ ১০ ওভারে ৫০ রান খরচায় নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। একটা করে উইকেট পেয়েছেন নাহিদ রানা, মেহেদি হাসান মিরাজ।