ফিফা র্যাংকিংয়ে ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে ৬৩ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়া ১১৮ নম্বরে আর বাংলাদেশ ১৮১তে। শক্তির বিচারেও যোজন যোজন এগিয়ে ইন্দোনেশিয়া। তবু মাঠের লড়াইয়ে এতো গোল হজম করতে হবে তা হয়তো ভাবেনি বাংলাদেশের কেউ! আসিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইন্দোনেশিয়ার হাতে। বাংলাদেশ চেষ্টা করেছে, কিন্তু রক্ষণভাগের দুর্বলতা আর স্বাগতিকদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে টিকতে পারেনি। প্রথমার্ধেই ছয় গোল হজম করে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় লাল-সবুজের দল। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে আবারও ভেঙে পড়ে রক্ষণ। ফলাফল এই বিশাল হার।
এ নিয়ে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই আসিয়ান কাপ শেষ হলো বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বে নিজেদের তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারল থমাস ডুলির দল।
ম্যাচের শুরুতেই বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে ইন্দোনেশিয়া। ১১ মিনিটে মিচেল বেকারের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। নয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন একই খেলোয়াড়। এরপর ৩২ মিনিটে রিজকি রিদোর গোলে বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়ে।
এর চার মিনিট পর অবশ্য একটি গোল শোধ করে বাংলাদেশ। ইতোফুসা শুকির ক্রস থেকে শাহরিয়ার ইমনের হেড জালে জড়ালে স্কোরলাইন হয় ৩-১। কিন্তু এই গোলে ম্যাচের রং বদলায়নি। বরং আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে ইন্দোনেশিয়া।
৩৭ মিনিটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বেকার। পাঁচ মিনিট পর আবারও বাংলাদেশের জালে বল পাঠান এই ইন্দোনেশিয়ান তারকা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে জাস্টিন হাবনারের গোলের পর ৬-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
প্রথম ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেছেন। শ্রাবণ গোলবারের নিচে দুর্দান্ত পারফর্ম না করলে প্রথমর্ধে আরও গোল হজম করত বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। রক্ষণে নিজেদের সংগঠিত করার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। বেশ কিছু সময় স্বাগতিকদের আটকে রাখতে সক্ষমও হয় ডুলির দল।
এই সময় অন্য ম্যাচের ফলও ইন্দোনেশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একই সময়ে অন্য ম্যাচে মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুরকে বড় ব্যবধানে হারাচ্ছিল। ফলে গ্রুপের ফাইনালের জায়গা নিয়ে তৈরি হয় গোল পার্থক্যের হিসাব।
সেই হিসেব মিলাতে শেষ দিকে আরও আক্রমাণাত্মক হয়ে উঠে ইন্দোনেশিয়া। ৯০ মিনিটে লুক ভিকারি গোল করে ইন্দোনেশিয়ার ব্যবধান ৭-১ করেন। পরের মিনিটেই রাকিবের ক্রস থেকে গোল করেন বদলি ফারহান আলী ওয়াহিদ। বাংলাদেশ ব্যবধান কমিয়ে ৭-২ করে। তখনও স্বাগতিকদের জন্য প্রয়োজন ছিল আরও দুই গোল।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে কেভিন ডিকস গোল করেন। তার দুই মিনিট পর নিজের পঞ্চম গোল করে স্কোরলাইন ৯-২ করেন বেকার। বিশাল জয়ের সঙ্গে গ্রুপ পর্বের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই করেও হারে ১-০ ব্যবধানে। আজ শেষ ম্যাচে হজম করতে হলো ৯ গোল!