গতকাল সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করা বাংলাদেশ আজ দিনের প্রথম সেশনে খুব একটা ভালো করতে পারেনি। আজ প্রথম সেশনে ৭৯ রান তুলে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেশনের শেষ বলে জাস্টিন গ্রিভসকে ফিরিয়ে দেন নাঈম হাসান। সেই নাঈম লাঞ্চ থেকে ফিরে রীতিমতো ঘুর্ণি জাদু দেখালেন!
দলীয় ২৪৫ রানের মাথায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ তিন ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়েছেন নাঈম। ক্যারিবিয়ানরা গুটিয়ে গেছে সেই ২৪৫ রানেই। যাতে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিয়সে ২৭২ রান তুলেছিল বাংলাদেশ।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৪ উইকেটে ১৩৪ রানে আজ তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের দিনের ৪৩ রানে অপরাজিত থাকা চন্দরপল আজও ধৈর্য নিয়ে ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন। এর মধ্যে দিনের ষষ্ঠ ওভারে ১৬৪ বল খেলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন চন্দরপাল। তবে তাঁর ইনিংস আর বড় হতে দেননি শরীফুল। ৫৯তম ওভারে শরিফুলের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ১৮২ বলে ৫৬ রান করে ফেরেন চন্দরপল।
চন্দরপাল ফেরার পর গ্রিভসের সঙ্গে যোগ দেন চেজ। এই জুটি আগে ভাঙার সুযোগ অবশ্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। নাঈম হাসানের করা ৭৩তম ওভারের চতুর্থ বলে শর্ট লেগে ক্যাচ তুলে দেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক চেজ। কিন্তু ক্যাচ নিতে পারেননি মুমিনুল।
অবশ্য লাঞ্চের ঠিক আগে সেই নাঈমের বলেই ফিরেছেন গ্রিভস। নাঈমের ভেতরে ঢোকা নিচু বাউন্সের ডেলিভারিতে পরাস্ত হন গ্রিভস। বল প্যাডে লাগতেই এলবিডব্লিউর আবেদন করেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। আম্পায়ার আঙুল তুলে দিলে রিভিউ না নিয়েই মাঠ ছাড়েন গ্রিভস। ৫১ রানের জুটি ভাঙে তাঁর বিদায়ে।
লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে ১১ বলে ১৫ রান করে জাগুয়া বিশপকে ফেরান মেহেদি হাসান মিরাজ। পরের গল্পটা নাঈম হাসানের। নিজের ৯ ডেলিভারির ব্যবধানে তুলে নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ তিন উইকেট। ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নাঈম হাসানই প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা বোলার। ১০.৫ ওভার বোলিং করে ৩৩ রান খরচায় নিয়েছেন চার উইকেট। তাইজুল ইসলাম ৭৬ ও মেহেদি হাসান মিরাজ ৬৫ রানে নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম।