Saturday 07 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পুঠিয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ মার্চ ২০২৬ ২১:২৪

সংঘর্ষের জেরে একটি দোকানে হামলার পরের চিত্র।

রাজশাহী: রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর থানার বাঁশপুকুরিয়া এলাকায় ঈদগাহ মাঠের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া, সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির একটি স্থানীয় দলীয় কার্যালয় ও একটি দোকানে ভাঙচুরসহ আসবাবপত্রে অগ্নিসংযোগও করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশপুকুরিয়া দক্ষিণপাড়া ঈদগাহ মাঠের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে বেলপুকুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও বিএনপি সমর্থক আব্দুল ওয়াহেদ এবং একই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি মো. মমিনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ৯টার দিকে এই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। এর আগে সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে মমিনের ভাতিজা খোরশেদ ও তার ছেলে জয় বাঁশপুকুরিয়া বাজারে আসলে ওয়াহেদের পক্ষের লোকেরা তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় খোরশেদ ও জয় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে আহত হন।

বিজ্ঞাপন

পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তারা রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, হামলার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মমিন সমর্থিত লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশপুকুরিয়া বাজারে পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় তারা ওয়াহেদকে না পেয়ে তার ভাতিজা আনিসুর রহমানের সার ও কীটনাশকের দোকান এবং ওয়াহেদ মেম্বারের গ্রুপ নিয়ন্ত্রিত বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা কার্যালয়ের ভেতর থেকে বিভিন্ন আসবাবপত্র রাস্তায় বের করে এনে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ খবর পেয়ে বেলপুকুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এ বিষয়ে বেলপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ঈদগাহ মাঠের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযোগপ্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর