Tuesday 29 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইতালি নেওয়ার কথা বলে মিশরে নিয়ে দেহ-ব্যবসা, মূলহোতা গ্রেফতার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:১৯

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা মোহাম্মদ আরজুর রহমান (৪৭)-কে গ্রেফতার করেছে এসআরবি। চক্রটি মেয়েদের ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শ্রীলংকায় অমানবিক নির্যাতন চালায়। পরে সেখান থেকে মিশরে নিয়ে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন ও দেহব্যবসা করতে বাধ্য করতো। গত ১২ বছর প্রায় দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশী মানুষকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে যায় চক্রটি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন‍্যতম হোতা গ্রেফতার’ সংক্রান্ত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান এসআরবি-৪ এর পদাতিক অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গতকাল সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানীর বনানীর সি ব্লক এলাকা হতে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা মোহাম্মদ আরজুর রহমান-কে এসআরবি-৪ এবং এসআরবি-১ এর যৌথ অভিযানের মাধ্যমে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে চলতি বছরের ১৬ জুলাই। মানবপাচার চক্রের প্রতারণার শিকার এক ভুক্তভোগী, কামরুন্নাহার ফাতেমা, সে মিশর থেকে আমাদের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই -এর সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়। এবং তাদেরকে জানায়, একটি মানবপাচার চক্র তাদেরকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মিশরে নিয়ে আটকে রেখেছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে এনএসআই গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। এই আরজু তখন মিশরে ছিল। দীর্ঘদিন যাবত তাকে ট্র্যাক করা হচ্ছিল যে, সে কখন বাংলাদেশে আসে। গত ৩-৪ দিন আগে বাংলাদেশে এসেছে এবং সামনের বৃহস্পতিবার আবার মিশরে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। গতকাল তাদেরকে এনএসআইর তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এই কামরুন্নাহার এবং তার পরিবারের মোট ৫ জন সদস্যকে ইতালি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আরজু তাদের কাছ থেকে ৮৫ লাখ টাকা নেয়। এরপর ‘বাংলাদেশ থেকে ভিসা হবে না’—এই বলে শ্রীলংকাতে নিয়ে যায়। শ্রীলংকাতে নেয়ার পর তাদের উপর অমানবিক অত্যাচার করে। এবং অত্যাচারিত হয়ে তার পরিবারের ৩ জন ছেলে সদস্য সেখান থেকে কোনোভাবে পালিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসে। পরে পরিবারের ২ জন মেয়ে ছিল—কামরুন্নাহার ফাতেমা এবং আঞ্জুমান আরা। এর মধ্যে আঞ্জুমান আরা সেখান থেকে পালিয়ে এখনো শ্রীলংকাতেই কোনো একটি জায়গায় রয়েছে। আর কামরুন্নাহার ফাতেমাকে তারা শ্রীলংকা থেকে ‘ভিসা হবে না’ বলে মিশরে নিয়ে যায়। মিশরে নিয়ে যাওয়ার পর তার উপর অমানবিক অত্যাচার করা হয় এবং তাকে অনৈতিক কাজের জন্য বাধ্য করা হয়। একটা পর্যায়ে সে যখন এগুলো করতে অস্বীকার করছিল, তখন তার উপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন করা হয়। এমনকি তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে সিগারেট দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এই চক্রটির মূলহোতা আরজুকে গ্রেফতারের পর আমরা জানতে পারি সে এই কাজের সাথে গত ১২ বছর যাবত সম্পৃক্ত। প্রায় দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশী মানুষকে এই ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে যারা পালিয়ে এসেছে গতকাল থেকে আজকে পর্যন্ত আমাদের সাথে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ভুক্তভোগী যোগাযোগ করেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

আরজুর নিজস্ব কোনো লাইসেন্স নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সে ‘আরজু ইমিগ্রেশন লিমিটেড’, ‘নাফিস এয়ার ইমিগ্রেশন লিমিটেড’—এই সমস্ত ভুয়া নাম ব্যবহার করে গ্রামের সহজ-সরল মানুষদেরকে বোকা বানিয়ে তাদেরকে ইউরোপের কথা বলে বিভিন্ন দেশে নিয়ে বিক্রি করে দিত। অনৈতিক কাজে বাধ্য করত। তার মোবাইলের একটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট পাই আমরা, যেখানে গত এক বছরের মধ্যে তার ট্রানজেকশন ছিল ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার উপরে।

মানব পাচার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, এই চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতিমধ্যে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে এসআরবি কর্তৃক ২২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কামরুন্নাহার ফাতেমা এবং আঞ্জুমান আরা, যারা শ্রীলংকা এবং মিশর থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাদের কষ্টের কথা জানিয়েছে, তাদেরকে দেশে ফেরত আনার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভাটারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদেরকে খুঁজে বের করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর