Wednesday 30 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাজশাহীতে নতুন চক্র / জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল এখন ‘ইয়াবা’, বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়!

শামীম সবুজ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৪ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০৩

সাধারণ ওষুধকে রং করে ‘ইয়াবা’ হিসেবে বিক্রি করছে অসাধু চক্র। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

রাজশাহী: ভয়াবহ এক নেশার নাম ‘ইয়াবা’ ট্যাবলেট। বাংলাদেশে ২০০২ সালে প্রথম এই নেশা শুরু হয়, এর পর থেকে তা বেড়েই চলেছে। মিয়ানমারে তৈরি হওয়া এই মাদকদ্রব্যটি চোরাচালান হয়ে বাংলাদেশে আসে। আর এটি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে, প্রতিনিয়ত অভিযানে নামতে বাধ্য হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজশাহীতেও ‘ইয়াবা’ ঠেকাতে চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান। এই অভিযানের মুখে আসল ইয়াবার জোগান কমে গেছে। ফলে নেশার বাজারে শুরু হয়েছে অভিনব এক প্রতারণা। মাত্র একটাকা দামের সাধারণ ওষুধকে মার্কার বা সাইনপেন দিয়ে লাল-গোলাপি রঙ করে ‘ইয়াবা’ হিসেবে বিক্রি করছে এক অসাধু চক্র। প্রতিটি ট্যাবলেট তারা বিক্রি করছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

বিজ্ঞাপন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর আইডি বাগানপাড়া রেললাইন এলাকা, বারো রাস্তা, বুধপাড়া, কোর্ট ঢালান, গুড়িপাড়া ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন স্পটে কৌশলে এই ভুয়া ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। ইয়াবার মতো চেহারা দিতে মূলত জন্মনিয়ন্ত্রণ ট্যাবলেট ‘মায়াবড়ি’ ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ ‘ডুরালাক্স’ ব্যবহার করছে চক্রটি। কম দামে বা সংকটের সময়ে মাদক পাওয়ার প্রলোভনে আসা তরুণরাই মূলত এই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। ভুয়া এই মাদক সেবন করে অনেকেই মারাত্মক শারীরিক সমস্যায় পড়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাদকসেবী সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে জানান, ঘন ঘন অভিযানের ফলে অনেকে ইয়াবা বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। একজনের কাছ থেকে দু’টি ‘মাল’ (ইয়াবা) নিয়েছিলেন ২৮০ টাকা পিস হিসেবে। পরে গ্রহণ করার সময় দেখেন, সেগুলো ওষুধ। কারণ, ওই ওষুধ নেওয়ার পর তার টয়লেটের বেগ অনেক বেড়ে গিয়েছিল।

এ ধরনের ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর জানিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চিকিৎসক ও সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এবং অপ্রয়োজনে এসব ওষুধ সেবনে শরীরে তীব্র পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো পুরুষ যদি নিয়মিত এই ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খায়, তাহলে তার হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, স্তন ফুলে যাওয়া, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক ও পুরুষত্বহীনতায় ভোগার আশঙ্কা রয়েছে।’

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, অভিযানের কারণে আসল মাদকের অভাব তৈরি হওয়ায় চক্রগুলো এই অপকৌশল বেছে নিয়েছে। এই ধরনের অপরাধ আরও নতুন নতুন অপরাধ তৈরির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে সমাজের অবক্ষয় তলানিতে গিয়ে ঠেকে। তখন দেখা যায়, যুবসমাজ কর্মমুখী চিন্তা বাদ দিয়ে, সহজ উপায়ে ও অসাধু পথে অর্থ উপার্জনের দিকে পা বাড়ায়।

এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র (উপ-পুলিশ কমিশনার) গাজিউর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘শুধু ইয়াবা নয়, সব ধরনের মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে মহানগর পুলিশ মাদক বিক্রির আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং সেসব জায়গা থেকে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

তবে ইয়াবার আদলে ‘মায়া বড়ি’ ও ‘ডুরালাক্স’ বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান। এ ছাড়া, বিষয়টি দ্রুতই তদন্ত করা হবে বলে নিশ্চিত করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

এসএসসি পাসেই বিমানসেনা পদে নিয়োগ
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৫

নয়া পল্টনে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৩১

আরো

সম্পর্কিত খবর