ঢাকা: বিশ্বের ১২৬টি শহরের বাতাসের গুণমান সূচক প্রকাশ করেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার। এতে আজ শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের কলকাতা শহর। তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটে এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বায়ুদূষণের শীর্ষে উঠে এসেছে ভারতের কলকাতা শহর। সংস্থাটি বায়ুমানের দিক থেকে কলকাতাকে ১৮৭ স্কোর দিয়ে তালিকার এক নম্বরে রেখেছে, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্য মানদণ্ডে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। অন্যদিকে এই তালিকায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশর রাজধানী ঢাকা অবস্থান করছে ষষ্ঠ স্থানে, যার বায়ুর মান স্কোর ১৬৬।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, বায়ুদূষণের তালিকায় ১৮৪ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর। একই দিনে ১৭৮ স্কোর নিয়ে ভিয়েতনামের হ্যানয় শহর রয়েছে তৃতীয় স্থানে। চতুর্থ স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা শহরের বাতাসের মান ১৭৩ রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ১৬৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর রয়েছে পঞ্চম স্থানে। এসব শহরের আবহাওয়া ও বাতাসই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে চিহ্নিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার সূচক অনুযায়ী, পরিবেশ ও মানুষের বাতাসের মান মানদণ্ড নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি মাত্রা রয়েছে। বায়ুর গুণমান বা স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘ভালো’ বাতাস বলা হয়। সূচক ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ ধরা হয়ে থাকে। বাতাসের স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে সূচক ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বাতাসের মান সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে তাকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০ এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বায়ুমণ্ডল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণ একটি দীর্ঘদিনের নাগরিক ও স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বছরের অন্যান্য সময় বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে এই নগরীতে বায়ুদূষণের মাত্রার মাত্রা চরম রূপ ধারণ করে। তবে বর্ষাকালে প্রতিনিয়ত বৃষ্টির কারণে বাতাসে ভাসমান নানা ধুলাবালুর পরিমাণ কিছুটা কমে স্বস্তি মেলে।
ফিটনেসবিহীন যানবাহনের নির্গত কালো ধোঁয়া, অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজের ধুলা, বিভিন্ন ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার দূষণ এই বিশাল নগরীর বাতাসের মান প্রতিনিয়ত খারাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।