Sunday 11 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে আইনি নোটিশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ অক্টোবর ২০২৬ ২০:০০ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ২০:০৫

লিগ্যাল নোটিশ। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: গরুর মাংসের খুচরা দাম প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে জীবিত গরু ও প্যাকেটজাত হালাল মাংস আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উচ্চমূল্যের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য গরুর মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইনি নোটিশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, যে পণ্য কোনো দেশে তুলনামূলক কম খরচে উৎপাদন করা সম্ভব, সে পণ্য উৎপাদনে ওই দেশের মনোযোগ দেওয়া উচিত। আর যেসব পণ্যের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যয় বেশি, সেগুলো আমদানির মাধ্যমে ভোক্তাদের জন্য দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর তৈরি পোশাক আমদানির উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় এসব দেশ বাংলাদেশ থেকে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে তৈরি পোশাক আমদানি করে। একইভাবে গরুর মাংস আমদানির সুযোগ তৈরি হলে দেশের বাজারে দাম কমানো সম্ভব হতে পারে বলে নোটিশে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদে খাদ্যসহ মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং ১৮(১) অনুচ্ছেদে জনগণের পুষ্টির স্তর ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে রাষ্ট্রের দায়িত্বের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত জীবনের অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সাশ্রয়ী মূল্যে পুষ্টিকর খাদ্যপ্রাপ্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, গরুর মাংসের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণে আমদানির সুযোগ না থাকায় দেশীয় বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত হচ্ছে। এতে কিছু খামারি ও পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া মুনাফার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত মাংস আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও শুল্ক যৌক্তিকীকরণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতি কেজি গরুর মাংসের খুচরা মূল্য ২৫০ টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর