Thursday 15 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মিরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত এএসপির বাড়িতে ডাকাতি, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৫

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১৭

– ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: জেলার মীরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মতিন উল্লাহর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।এ সময় ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি এলজি, চার রাউন্ড কার্তুজ, দুটি বড় ছোরা ও একটি ট্রাকসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম এ তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মো. আব্দুর রহিম, বরুড়া উপজেলার মো. জামাল উদ্দিন ওরফে কুদ্দুস, দাউদকান্দি উপজেলার মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে সজিব, লাকসাম উপজেলার মো. আনোয়ার হোসেন মিলন এবং একই উপজেলার মো. হানিফ। তাদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন মিলন ও হানিফ চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকায় বসবাস করতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

এসপি মাসুদ আলম বলেন, ‌‌‌গত ১০ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টা থেকে ৩টার মধ্যে মীরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম ওয়াহেদপুরের শেখের তালুক এলাকায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলের ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় বাড়ির মালিক মতিন উল্লাহকে মারধর করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাখা হয়। তার স্ত্রী-মেয়েকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে আটকে রাখে ডাকাতেরা।

তিনি বলেন, ‌পরে ডাকাতরা ঘরের আলমারি, ওয়ারড্রোব ও আসবাবপত্র তছনছ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার, কম্পিউটারের সিপিইউসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য ১৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫০ টাকা। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা প্রতিবেশীদের সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, গ্রেফতার ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যের মধ্যে রহিমের বিরুদ্ধে চুরি, অস্ত্র, হত্যা ও ডাকাতিসহ ১০টি মামলা রয়েছে। কুদ্দুসের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে চারটি এবং সাইফুলের বিরুদ্ধে ডাকাতির দুটি মামলা রয়েছে। হানিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির চেষ্টার একটি মামলা রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর ও মনিটর, একটি সিপিইউ এবং একটি ভাঙা তালা। এ ছাড়া ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি এলজি, চার রাউন্ড কার্তুজ, দুটি বড় ছোরা ও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং অন্যান্য অপরাধের তথ্য উদ্ঘাটনে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর