ঢাকা: রাজধানী ঢাকার পশ্চিমাঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গোরানচটবাড়ি রিটেনশন পন্ড এবং এর আনুষঙ্গিক পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করার বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন সমীক্ষার অংশ হিসেবে গোরানচটবাড়ি পাম্প স্টেশন প্রাঙ্গণে এক জনমত যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এবং সিইজিআইএস-এর সহযোগিতায় এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভার শুরুতে প্রজেক্ট উপস্থাপনা করেন এম. এল. সৈকত (নির্বাহী প্রকৌশলী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড)।
সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সম্ভাব্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেইসঙ্গে স্থানীয় অংশীজনদের প্রাপ্ত মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা ও প্রশমন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে বলেন জানান আয়োজকরা।
সভায় বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অবৈধ দখল, পলি জমা এবং কঠিন-তরল বর্জ্য নিষ্কাশনের ফলে রিটেনশন পন্ডসহ সংযুক্ত বাউনিয়া, রূপনগর ও দিগুন খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এতে কমে যায় পানির ধারণক্ষমতা, তৈরি হয় তীব্র দুর্গন্ধ এবং বৃদ্ধি পায় স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি। এ পরিস্থিতি নিরসনে এবং জলাধারটির পানি ধারণক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ‘ঢাকা জেলার গোরানচটবাড়ি রিটেনশন পন্ডের সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের কারিগরি ও পরিবেশগত দিক পর্যালোচনার জন্য ইতোমধ্যে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়। সমীক্ষার আওতায় ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) কারিগরি নকশা ও ল্যান্ডস্কেপ পরিকল্পনা এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে।
প্রকল্পের প্রধান প্রস্তাবিত কার্যক্রমগুলো হলো— গোরানচাটবাড়ি রিটেনশন পন্ড, বাউনিয়া খাল পুনঃখনন এবং তুরাগ নদী ড্রেজিং। আধুনিক পানি শোধনাগার নির্মাণ, ভাসমান কৃত্রিম জলাভূমি স্থাপন এবং দ্রবীভূত অক্সিজেন বাড়াতে ফাউন্টেন-কাম-এরেটর স্থাপন। কঠিন বর্জ্য অপসারণের জন্য যান্ত্রিক ট্র্যাশ র্যাক স্থাপন। দিগুন খালের তীর ও RUAP সীমানা বরাবর ওয়াকওয়ে নির্মাণ, পশ্চিম পাশে সীমানা প্রাচীর এবং উদ্ভিদ-আচ্ছাদিত সবুজ সীমানা প্রাচীর তৈরি।
এদিকে, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান (FAP-8B)-এর আওতায় গড়ে ওঠা প্রায় ২৫৭.৭৯ হেক্টর আয়তনের এই রিটেনশন পন্ডটি পশ্চিম ঢাকার পানি তুরাগ নদীতে নিষ্কাশনে মূল ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পন্ডের পানি ধারণক্ষমতা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি নগরীর জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে দূষণ ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বিনোদন ও টেকসই পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সভায় পরিবেশ অধিদফতর ঢাকা মহানগরের পরিচালক ফরিদ আহমেদ ও এর কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধতন কর্মকর্তা, ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এর কর্মকর্তা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণ সভায় অংশ নেন।