Thursday 05 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘হামের টিকা আমদানি না করার পেছনে প্রশাসনিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা জড়িত’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:০১

শাহবাগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কেন বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং জরুরি টিকা কেন আমদানি করা হয়নি- সেই প্রশ্ন তুলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, এর পেছনে চরম প্রশাসনিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা জড়িত। দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতে এরই মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে শাহবাগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় আমরা দেশে হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব দেখতে পাই। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের শেষ বা ২০২৫ সালের শুরুতে যে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল, তৎকালীন সরকার তা পরিচালনা করেনি। এমনকি মন্ত্রণালয়ে আপৎকালীন কোনো মজুতও রাখা হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কারা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং কেন প্রয়োজনীয় টিকা আমদানি করা হলো না, তা দেশবাসীর জানা জরুরি। আমরা কোনো দোষারোপের রাজনীতি করতে চাই না, তবে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে কোনো শিশুর জীবন যেন অকালে ঝরে না যায়, সেজন্যই একজন বিচারক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে।’

টিকা সংকট উত্তরণের বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই সরকার জরুরি ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করে মাত্র এক থেকে দুই মাসের ব্যবধানে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশে তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও শরীরচর্চার অভাবে কম বয়সেই বহু মানুষ হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন, যা একক ব্যক্তির চেয়ে পুরো পরিবারের ওপর বিপর্যয় ডেকে আনছে।’

তিনি বলেন, “দূর-দূরান্তের হৃদরোগীরা যাতে নিজ বাড়িতে বসেই সাশ্রয়ী পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘অ্যাক্রস-বিডি’ গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের আটজন তরুণ চিকিৎসক ও গবেষক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন।’

এ সময় তিনি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহবান জানান।

সারাবাংলা/এমএইচ/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো