Friday 25 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চলছে সুন্দরবনের পর্যটনবাহী নৌযান ধর্মঘট, ফিরে যাচ্ছেন পর্যটকরা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৪
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাগেরহাট: মোংলায় সুন্দরবনের পর্যটনবাহী জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার মালিকদের ধর্মঘট চলছে। এ ধর্মঘটের আওতায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সুন্দরবনে পর্যটকশূন্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পর্যটনবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দূরদূরান্ত থেকে মোংলার পিকনিক কর্ণারে আসা পর্যটকদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

জালিবোট মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু হানিফ জানান, গত রোববার নৌপরিবহন অধিদফতরের খুলনা অঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় থাকা অন্তত ৩০টি জালিবোটের ওপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে ফেলেন এবং সেইসব মালামাল নিয়ে যান। এতে বোটগুলোর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের বসার স্বাচ্ছন্দ্যও ব্যাহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকরা ধর্মঘট শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ডিজি শিপিং (নৌপরিবহন অধিদফতর) নানা শর্ত আরোপ করে বোট মালিকদের অহেতুক হয়রানি করছে। ছোট এসব নৌযান ডিজি শিপিংয়ের আওতাভুক্ত নয়। লাইসেন্সের অজুহাতে এসব নৌযান নিয়ন্ত্রণে নিতে মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। অথচ সারা বছরে মাত্র তিন মাস পর্যটন মৌসুম থাকে, বাকি সময় নৌযানগুলো অলস পড়ে থাকে। এ অবস্থায় ৩০-৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে ডিজি শিপিংয়ের শর্ত পূরণ করা বোট মালিকদের পক্ষে সম্ভব নয়।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা পর্যটক আব্দুর রহমান বলেন, ‘পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে জানতে পারি নৌযান ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।’

দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা সরোবর আলম বলেন, ‘এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ। ফলে সুন্দরবন ভ্রমণ করা সম্ভব হচ্ছে না, বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছি।’

মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নৌপরিবহন অধিদফতরের হয়রানির প্রতিবাদে সব নৌযান মালিক নিজ নিজ উদ্যোগে জালিবোট, ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন। ধর্মঘটের আওতায় প্রায় ৪০০টি নৌযান রয়েছে। বোট মালিকদের পক্ষে ব্যয়বহুল শর্তগুলো পূরণ করা সম্ভব নয়। হয়রানি বন্ধ না হলে সুন্দরবনগামী নৌযান চলাচল বন্ধই থাকবে।’

সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, নৌযান মালিকরা তাদের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখায় সোমবার ভোর থেকে করমজলে কোনো পর্যটক বা নৌযান আসতে পারেনি।

এদিকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, ‘জালিবোটগুলোর ওপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে যাতে নৌযানের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি না থাকে। মূল উদ্দেশ্য হলো পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

সারাবাংলা/এমপি
বিজ্ঞাপন

ফেলিক্সের গোলে পর্তুগালের জয়
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩০

আরো

সম্পর্কিত খবর