Tuesday 22 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শৈত্যপ্রবাহ থাকবে আরও এক সপ্তাহ: আবহাওয়া অধিদফতর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: পৌষের শেষভাগে এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের অন্তত ২৪ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আরও এক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিনের তুলনায় শৈত্যপ্রবাহে আক্রান্ত জেলার সংখ্যা কিছুটা কমলেও সার্বিকভাবে শীতের প্রকোপ কমেনি। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, জানুয়ারির অন্তত মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ চলতে পারে। এ সময় নতুন কিছু জেলা শৈত্যপ্রবাহের আওতায় আসতে পারে, আবার কোথাও কোথাও এর প্রভাব কমতেও পারে।

বর্তমানে গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া জেলাসহ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বহু জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগেই রয়েছে ১৬টি জেলা। বুধবার (৭ জানুয়ারি) দেশের ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল, সেদিন নওগাঁর বদলগাছীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, শৈত্যপ্রবাহ দ্রুত কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এর প্রভাব থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ এবং ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিন আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। মৌলভীবাজারের চা বাগান এলাকায় শ্রমিকরা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। দৈনিক স্বল্প মজুরিতে সংসার চালানো এসব শ্রমিকদের পক্ষে গরম কাপড় কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামেও শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব তীব্র। কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীত নিবারণে অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে বোরো ধান রোপণ পিছিয়ে যাচ্ছে। কমে গেছে দিনমজুর ও রিকশাচালকদের আয়-রোজগার।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। শীত ও কুয়াশার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগ বাড়ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শীতজনিত দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর