Friday 06 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আল্ট্রাসনোগ্রামে যমজ, সিজারের পর এক নবজাতকের খোঁজ নেই

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৬ নভেম্বর ২০২৬ ২২:০৪

নওগাঁ: নওগাঁয় দুইটি আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে যমজ জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছে বলে পরিবারকে জানানো হয়। তবে অপর নবজাতকের বিষয়ে কোনো তথ্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বাবা শান্ত ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বলাকা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

শান্ত ইসলামের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে তার স্ত্রী সান্ত্বনা আক্তারের দু’টি আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে যমজ জীবিত ভ্রূণের কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের সদস্যদের শুধু একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়। অপর সন্তানটির বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি। এ ঘটনায় বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আর্থিক প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় নবজাতকের বাবা শান্ত ইসলাম নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি অপর নবজাতকের সন্ধান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শান্ত ইসলামের ভাষ্য, তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর দু’টি পৃথক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। উভয় প্রতিবেদনে গর্ভে দু’টি জীবিত ভ্রূণ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

১২ অক্টোবর জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা পরীক্ষার প্রতিবেদনে দু’টি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সেখানে উভয় ভ্রূণের হৃদ্‌স্পন্দন প্রতি মিনিটে ১৪৭ বার উল্লেখ করা হয়। পরে ২১ অক্টোবর নওগাঁর রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনেও দু’টি জীবিত ভ্রূণের কথা বলা হয়। ওই প্রতিবেদনে তাদের হৃদ্‌স্পন্দন যথাক্রমে প্রতি মিনিটে ১৪৬ ও ১৪০ বার উল্লেখ করা হয়। সম্ভাব্য ওজন দেখানো হয় ২ হাজার ৩৩১ গ্রাম ও ২ হাজার ৪৮৬ গ্রাম।

শান্ত ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে তার স্ত্রী সান্ত্বনা আক্তারকে বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনেই সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের সদস্যদের একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়। কিন্তু অপর সন্তানটির বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।

প্রসূতি সান্ত্বনা আক্তারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক ও ক্লিনিকের লোকজনের কাছে তারা জানতেন, তার গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়েসন্তান রয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তাকে একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা প্রতিবাদ করেন। এ সময় তার পেটের অস্ত্রোপচারের কাটা অংশ সেলাই না করে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সান্ত্বনা বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে তারা আমার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করে ফেলে রাখে। এ সময় মোবাইলফোনে ভিডিও করে এবং বলে, তাদের কথা না শুনলে এ অবস্থায় রেখেই চলে যাবে। পরে আমার শরীরে কাঁপুনি শুরু হলে আমি বলি, আপনাদের সব কথা শুনব, আগে পেটের সেলাই করেন। এরপর চিকিৎসক আমার সঙ্গে রাগারাগি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরে পেটের কাটা অংশ সেলাই করা হয়। আমি আমার দুই সন্তানকেই চাই। আমার আরেক সন্তান কোথায়, তা জানতে চাই।’

এ বিষয়ে বলাকা ক্লিনিকের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘রোগী চিকিৎসক মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনিই অস্ত্রোপচার করেছেন। সন্তান একটি নাকি দু’টি, তা ওই চিকিৎসকই বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘নবজাতকের বাবা নিজে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানার ওসি ও জেলা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোনো বক্তব্য দেননি।