Wednesday 16 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং কমবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট 
২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৫৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং কমবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। একই সঙ্গে দেশের পতিত সব সরকারি জমির তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব জমি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

সোমবার (২৭ এ‌প্রিল) গুলশানের একটি হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

তিনি বলেন, এখন একমাত্র সমাধান সৌরবিদ্যুৎ। তাই সব মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত জমির তালিকা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। রেলওয়ে সবচেয়ে বড় জমিদার, তাদের অনেক জমি পড়ে আছে, এসব বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সিরাজগঞ্জে ৯০০ একর জমি পড়ে আছে। এসব জমি আমরা বেসরকারি খাতে দেব। কেননা আগামী পাঁচ বছরে আমরা ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাই।’

লোডশেডিংয়ের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার কপাল খারাপ। দায়িত্ব নেওয়ার পরই লোডশেডিং শুরু হয়েছে। সরকারি খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পড়ে আছে। তাই বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো তেল-কয়লা কিনতে পারছে না। তবে আগামী সপ্তাহে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে। লোডশেডিং ৮০০-৯০০ মেগাওয়াটে কমিয়ে আনা হবে।’

তিনি আরো বলেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদার দ্বিগুণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও তা কাজে লাগছে না। জ্বালানিসংকট, বকেয়া বিল ও কারিগরি ত্রুটির কারণে সক্ষমতার অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

সেমিনারে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বর্তমান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়ে কবে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা কেউ বলতে পারবে না। তাই নবায়নযোগ্য খাতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’

জানা গেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহের দুই মূল সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্র বলছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু কয়েক দিন ধরে ১৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। যদিও দিনের অধিকাংশ সময় উৎপাদিত হচ্ছে ১২ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা ১৪-১৫ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে জলবায়ু সংকট ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় অবিলম্বে একটি বাস্তবভিত্তিক জাতীয় জ্বালানিনীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।

নাগরিক সমাজ, পরিবেশ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় এ মুহূর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। তারা প্রকৃতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। জ্বালানির ইস্যু শুধু মানুষের জন্য নয়, প্রকৃতির জন্য প্রযোজ্য হবে।

তাদের সুপারিশে রমধ্যে রয়েছে- নতুন জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন, জ্বালানি খাতে দুর্নীতি দমন ও চুক্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা। নতুন জীবাশ্মভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ, নতুন এলএনজি টার্মিনাল নয় ও গ্যাস অপচয় রোধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির জাতীয় লক্ষ্য নির্ধারণ করতে দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যয়বহুল প্রযুক্তি পরিহার করে সার্কুলার গ্রিন ইকোনমি বাস্তবায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ই-বর্জ্য রিসাইক্লিং শিল্প গড়ে তোলার দাবি উপস্থাপন করেন।

সারাবাংলা/এসএ/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর