Tuesday 12 May 2026
সারাবাংলা: লেটেস্ট বাংলা খবর | ব্রেকিং নিউজ | Sarabangla.net

সঙ্গীর ‘লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ’ বুঝতে পারেন?

ফারহানা নীলা
১২ মে ২০২৬ ১৮:৫৩

সম্পর্কের শুরুতে আমরা প্রত্যেকেই এক অমোঘ আকর্ষণে একে অপরের কাছাকাছি আসি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে যখন দৈনন্দিন জীবনের জটিলতা বাড়ে, তখন অনেক ক্ষেত্রেই মনে হয় ‘আমি তো ওকে এত ভালোবাসি, কিন্তু ও কেন তা বুঝতে পারছে না?’ অথবা সঙ্গীর অভিযোগ শোনা যায়, ‘তুমি আমাকে মোটেই সময় দাও না।’ আসলে, এই অমিল বা অভিমানের মূলে থাকে গ্যারি চ্যাপম্যানের সেই বিখ্যাত তত্ত্ব: ‘ফাইভ লাভ ল্যাঙ্গুয়েজেস’।

ভালোবাসার প্রকাশভঙ্গি মানুষের সহজাত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। আপনি হয়তো সঙ্গীকে দামি উপহার দিয়ে খুশি করতে চাইছেন, কিন্তু তিনি আসলে চাইছেন দিনের শেষে আপনি তার পাশে বসে একটু মন দিয়ে তার কথা শুনুন। এখানেই ঘটে বিপত্তি। আমরা আমাদের নিজস্ব ভাষায় ভালোবাসা দিতে চাই, কিন্তু আমাদের সঙ্গী সেই ভাষাটি বোঝেন না বা সেটি তার প্রিয় ভাষা নয়।

বিজ্ঞাপন

আপনার ভালোবাসা প্রকাশের ভাষা কোনটি?

গ্যারি চ্যাপম্যানের মতে, প্রতিটি মানুষ মূলত পাঁচটি উপায়ে ভালোবাসার অনুভব করে…

প্রশংসাসূচক শব্দ (Words of Affirmation): মৌখিক প্রশংসা বা ভালো লাগার কথা প্রকাশ করা।

মানসম্মত সময় (Quality Time): কোনো বাধা ছাড়া প্রিয় মানুষের সঙ্গে নিবিড় সময় কাটানো।

উপহার গ্রহণ (Receiving Gifts): উপহারের চেয়ে উপহারের পেছনের চিন্তাভাবনা বা গুরুত্বকে অনুভব করা।

সেবামূলক কাজ (Acts of Service): সঙ্গীর দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করা বা তার ওপর থেকে বোঝা কমানো।

শারীরিক স্পর্শ (Physical Touch): হাত ধরা, জড়িয়ে ধরা বা স্পর্শের মাধ্যমে নৈকট্য অনুভব করা।

ভুল বোঝাবুঝির গোলকধাঁধা

ভুল বোঝাবুঝি তখন জন্ম নেয়, যখন আমরা জোর করে সঙ্গীকে আমাদের ভাষায় ভালোবাসা দিতে চাই। উদাহরণস্বরূপ, আপনার প্রধান লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ যদি ‘উপহার’ হয়, আপনি হয়তো বারবার সঙ্গীকে দামি জিনিস কিনে দিয়ে তাকে খুশি করতে চাইবেন। কিন্তু আপনার সঙ্গীর লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ যদি হয় ‘মানসম্মত সময়’, তবে তিনি ভাববেন, আপনি উপহার দিয়ে তার সাথে কাটানো সময়কে কিনছেন বা এড়িয়ে চলছেন। ফলে উপহারটি তার কাছে ভালোবাসার প্রতীক না হয়ে বরং দূরত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সম্পর্ককে নতুন করে চেনার উপায়

পর্যবেক্ষণ করুন: সঙ্গী আপনাকে বা অন্যকে কীভাবে ভালোবাসা দেখান, তা খেয়াল করুন। তিনি কি প্রায়ই প্রশংসা করেন? নাকি কোনো প্রয়োজনে ছুটে আসেন? তার আচরণের ধরনই বলে দেবে তার ভাষা কী।

সরাসরি প্রশ্ন করুন: অনুমানের ওপর নির্ভর না করে সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করুন, “তুমি ঠিক কোন মুহূর্তে নিজেকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার যোগ্য বা প্রিয় মনে করো?”

নিজের ভাষা প্রকাশ করুন: আপনার সঙ্গীর লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ বুঝতে পারা যেমন জরুরি, তেমনি আপনার নিজের প্রিয় ভাষাটি তাকে জানানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। খোলাখুলি কথা বললে অনেক জটিলতা নিজে থেকেই কমে যায়।

নতুন ভাষাতে অভ্যস্ত হওয়া: অন্যের ভাষা বোঝা মানেই নিজের অভ্যাস বদলে ফেলা নয়। বরং সম্পর্কের স্বার্থে মাঝেমধ্যে সঙ্গীর পছন্দের ভাষায় ভালোবাসা প্রকাশ করা একটি চমৎকার মানবিক বিনিয়োগ।

ভালোবাসা কোনো জাদুকরী বিষয় নয়, এটি একে অপরের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যখন আপনারা একে অপরের ‘ইমোশনাল ফিলিং স্টেশন’ বা ভালোবাসার উৎসগুলো শনাক্ত করতে পারবেন, তখন ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝিগুলো আর বড় কোনো দূরত্ব তৈরি করতে পারবে না। নিজের ভাষা দিয়ে নয়, সঙ্গীর ভাষায় ভালোবাসা প্রকাশই হোক আপনার সম্পর্কের নতুন চালিকাশক্তি।

সারাবাংলা/এফএন/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

ফারহানা নীলা - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর