Monday 28 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রয়টার্সের প্রতিবেদন / ইরান প্রশ্নে ট্রাম্প সহায়তা চাইলেও অনিচ্ছুক থাকতে পারে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ মে ২০২৬ ০৮:৩৯
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিরসনে বেইজিংয়ের সহায়তা চাইতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে সীমিত ভূমিকা রাখতে রাজি হতে পারে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইরানের প্রতি অর্থনৈতিক সমর্থন কমানো বা সামরিক কাজে ব্যবহৃত দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য সরবরাহ বন্ধে আগ্রহী নয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

দুই দিনের সফরে বুধবার (১৩ মে) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ মে) চীনের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বুধবার (১৩ মে) থেকে আগামী ১৫ মে পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করবেন ট্রাম্প। তার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ দুই ব্যবসায়ী জেনসেন হুয়াং এবং ইলন মাস্ক।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন প্রশাসনের আশা, বিশ্বের বৃহত্তম ইরানি তেল ক্রেতা হিসেবে চীন তেহরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত করতে সহায়তা করবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের নিজস্ব কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ থাকায় শি জিনপিং বড় ধরনের ছাড় দিতে ইরানকে চাপ দিতে অনিচ্ছুক থাকতে পারেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতিও নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার বড় অংশই চীনের জন্য নির্ধারিত।

দুইদিনের চীন সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, একদিকে চীন চায় হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে চালু থাকুক, অন্যদিকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে বেইজিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের পালটা ভারসাম্য রক্ষাকারী। ফলে ওয়াশিংটনের অনুরোধে চীন ইরানের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করবে—এমন সম্ভাবনা কম।

এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে আলোচনায় আনতে চীনের সহায়তা তার জন্য অপরিহার্য নয়। মঙ্গলবার (১৩ মে) সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরান বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারবে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলসও বলেন, আলোচনার ক্ষেত্রে সব শক্তিশালী অবস্থান ট্রাম্পের হাতেই রয়েছে।

চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকানো। তিনি অন্য দেশকে দোষারোপ না করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের ওপর চাপ সৃষ্টিতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিকল্প সীমিত। চীনা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শুল্ক বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ বিবেচনায় থাকলেও, এতে পালটা প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হতে পারে। বড় চীনা ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব ইরান সংঘাতের চেয়েও বড় হতে পারে।

এ ছাড়া বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণে চীনের আধিপত্য থাকায় বেইজিং চাইলে সরবরাহ সীমিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পালটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

ছবির গল্প ভাসমান চাষে সবজি উৎপাদন
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:১৭

আরো

সম্পর্কিত খবর