Tuesday 27 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙার আগেই কাজ দেখান’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৯

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

রংপুর: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ক্ষমতায় আসার ছয়-সাত মাস পার হলেও এখন আর অজুহাত দিয়ে জনগণকে ভোলানো যাবে না। জনগণ এখন হাতে-কলমে কাজ দেখতে চায়। ক্ষোভ নামার আগেই বাজারের আগুন ও দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে আনতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা কমিটির কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি এবং তারেক রহমান ইতিহাসের একটি বরপুত্র হিসেবে সামনে এসেছেন। এই সুযোগ এই মুহূর্তে অন্য কোনো দল বা ব্যক্তির নেই। ২০ কোটি মানুষকে একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব এখন তাদের কাঁধে। এই কাজে সফল হলে ইতিহাসে তারা ছাপ রাখতে পারবেন।’

বিজ্ঞাপন

সাইফুল হক বলেন, ‘মানুষ এখনো পর্যন্ত ধৈর্য ধরে আছে, বিএনপিকে সময় দিচ্ছে। কিন্তু অনন্তকাল বা অনির্দিষ্টকাল এভাবে মানুষ ধৈর্য ধরবে না। তার লক্ষণ আমরা দেখছি—মানুষের মধ্যে নতুনভাবে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ দানা বাঁধছে। লক্ষ লক্ষ বেকার। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরছে, ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়ায় নৌকায় যেতে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। আমাদের শ্রমশক্তিকে এভাবে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।’

বক্তব্যে তিনি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা ও বগুড়া-ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা বিধৌত এই অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ চূড়ান্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। এখানে শিল্প-কারখানা নেই। আমি দেখতে চাইব, এই সরকার উত্তরাঞ্চলকে একটি শিল্প অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেবে, যাতে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো আলোচনা শুরু করা যায়নি। তারা আমাদের বৈরী প্রতিবেশী। কিন্তু বৈরি প্রতিবেশী হয়েও মানুষকে বসবাস করতে হয়। আমরা যেমন ভারতকে বদলাতে পারব না, তারাও আমাদের বদলাতে পারবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বন্ধুত্বের মর্যাদা দিলেও ভারত আমাদের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের মর্যাদা দেখায়নি।’

সাইফুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চলন, আচরণ ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা অনেকে অর্জন করতে পারেনি। কিন্তু সরকারের অনেক মন্ত্রী, এমপি ও আমলারা এখনো তাঁর কাজের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না। বিএনপির দুর্ভাগ্য ক্ষমতায় আসার পরপরই ইরানের পরিস্থিতি, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট, আওয়ামী লীগের পুরনো পাপের প্রায়শ্চিত্ত এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু ভুল নীতির হেসারত আজ জনগণকে ভোগ করতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি খাতকে আমদানি নির্ভর ও বিদেশ নির্ভর করা হয়েছিল। আমরা বারবার বলেছি, বিংশ শতাব্দীতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি বা তেল-গ্যাসের মতো সম্পদ কোনোভাবেই বিদেশ নির্ভর করে কোনো দেশ স্বাবলম্বী হতে পারে না। সরকারের কানে কিছুটা পানি ঢুকেছে। আমরা রংপুরের এই সভা থেকেও পরিষ্কার করে বলতে চাই সরকারকে বিদেশ নির্ভর ও আমদানি নির্ভর জ্বালানি থেকে সরে আসতে হবে, জাতীয় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিতে গুরুত্ব দিতে হবে।’

বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সংসদে তারা ভেজা বিড়ালের মতো আচরণ করেন। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন, শুনতে ভালোই লাগে। কিন্তু বাইরে আবার নতুন করে বাঘ হওয়ার চেষ্টা করছেন। কোনটা সত্য বাইরেরটা না ভেতরেরটা? তারা ২০২৫ বছর ধরে বিএনপির ছত্রছায়ায় ছিলেন। মানুষ এখনো তাদের বিরোধী দল হিসেবে বিবেচনা করছে না। এই কারণেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছে। মাত্র ছয় মাস বয়সী একটি সরকারকে তারা ডিসেম্বরের মধ্যে পতন ঘটানোর কথা বলছে। আমার প্রশ্ন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে যদি বিএনপির পতন ঘটে, আপনারা কি সরকার গঠন করবেন? এরকম কোনো বাস্তবতা বাংলাদেশে আছে কি? প্রকারান্তরে এই কথার মধ্য দিয়ে আপনারা সামাজিক অস্থিরতা ও নৈরাজ্য বাড়িয়ে তুলছেন কিনা, পরাজিত ফ্যাসিস্টদের ফেরার জন্য নতুন করে জমিন তৈরি করছেন কিনা সেটা ভেবে দেখার বিষয়।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর