চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাহেদুল আলম (৩৩) ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে মো. আজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায়।
মাসুদ আলম বলেন, গত ৩০ আগস্ট রাত ১০টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় জাহেদুল আলমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদ (২৫)ও আহত হন। পুলিশের তথ্যমতে, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে জাহেদের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে পুরানগড় নতুনহাট এলাকায় জাহেদকে মারধর করে ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে জাহেদ ওয়াহিদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাদের পথরোধ করা হয়। পরে সশস্ত্র একদল ব্যক্তি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে জাহেদের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়।
গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের একপর্যায়ে পাহাড়তলি থানা এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, মামলার একাধিক আসামি চট্টগ্রামের বাইরে গিয়ে ঢাকায় আত্মগোপন করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঢাকায় অভিযান চালায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ১২ আসামি হলেন- জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার মো. আজাদকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আজাদের দেওয়া জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত অবশিষ্ট আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।