কুমিল্লা: কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
রাত পৌনে ১০ টার দিকে আসামিদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা আদালতের পরিদর্শক সাদিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রোববার রাত নয়টার দিকে তিন ঘাতককে আদালতে সোপর্দ করে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ।
আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিনের বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার সানন্দা এলাকায়। তিনি কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২৫ সালে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। পুলিশ তাকে এ মামলার প্রধান আসামি ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অপর দুজন ফাহাদ এবং কামরুল। কামরুল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে। ফাহাদের বাড়ি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকায়। তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পুলিশ জানায়নি।
সুত্র জানায়, জবানবন্দিতে তারা তিনজনই অপ্রতিমকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। অপ্রতিমের হাতে থাকা আইফোনটি দিতে রাজি না হওয়ায় তার সঙ্গে আসামিদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় তারা। এ সময় বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে তারা অপ্রতিমের হত্যা নিশ্চিত করে।
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামিদের নাম অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।