Monday 21 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

প্রখর রোদে বারান্দায় যেসব গাছ সতেজ থাকে

সারাবাংলা ডেস্ক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:১৮

গ্রীষ্মের প্রখর তাপদাহে বারান্দার প্রিয় গাছগুলোর পাতা শুকিয়ে বা ঝলসে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন? বর্ষা কিংবা বসন্তের মৃদু রোদে আমাদের দেশের গাছগুলো স্বাভাবিকভাবেই সতেজ থাকে, কিন্তু গ্রীষ্মের তীব্র খরতাপ অনেক সাধারণ ইনডোর প্ল্যান্ট সহ্য করতে পারে না। এমন ঋতুতে ঘরের বারান্দাকে নতুন রূপ দিতে প্রখর রোদ সইতে পারে এমন গাছ বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমত্তার কাজ। প্রখর রোদ ও অতিরিক্ত উত্তাপের মুখোমুখি হয়েও কোন গাছগুলো বারান্দাকে চিরসবুজ ও সুন্দর রাখবে, চলুন জেনে নিই তাদের পরিচর্যার সহজ উপায়…

১. স্নেক প্ল্যান্ট

ঘরের বায়ু শোধন করতে এবং সৌন্দর্য বাড়াতে এই গাছের জুড়ি নেই। এটি প্রচণ্ড রোদ ও কম পানির পরিবেশেও সতেজ থাকে। টবের মাটি পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার পর সামান্য পানি দেবেন। কোনোভাবেই যেন টবের গোড়ায় পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

২. ঘৃতকুমারী (অ্যালোভেরা)

রূপচর্চা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দারুণ কার্যকরী এই ভেষজ গাছটি রোদ পেলেই খুব দ্রুত বাড়ে। অ্যালোভেরার জন্য খুব বেশি পানির প্রয়োজন হয় না; মাটি শুকিয়ে গেলে সপ্তাহে একবার পানি দেওয়াই যথেষ্ট। ক্যাকটাসের উপযুক্ত ঝুরঝুরে মাটিতে এটি সবচেয়ে ভালো বাড়ে।

৩. ক্রোটন (রঙিন পাতাবাহার)

আপনার বারান্দায় রঙের বৈচিত্র্য আনতে ক্রোটন দুর্দান্ত এক পছন্দ। প্রখর রোদ পেলে এর পাতার উজ্জ্বলতা ও বর্ণ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এই গাছের ক্ষেত্রে মাটি সামান্য আর্দ্র রাখা ভালো এবং প্রতি মাসে একবার জৈব সার দিলে গাছ বেশ সতেজ থাকে।

৪. জেড প্ল্যান্ট

মাংসল পাতার ভেতরে প্রচুর পানি ধরে রাখার ক্ষমতা থাকায় এটি তীব্র রোদ এবং খরা অনায়াসে সহ্য করতে পারে। সামান্য যত্নেই বেঁচে থাকা এই গাছের টবের মাটি শুকিয়ে গেলে তবেই পানি দিন।

৫. অ্যাগ্লোনিমা

ঘরের বাতাস থেকে ক্ষতিকারক উপাদান দূর করতে অ্যাগ্লোনিমা বেশ কার্যকর। এটি কম আলোতেও বেঁচে থাকে, তবে ব্যালকনির রোদে এর বংশবৃদ্ধি ও বৃদ্ধি দুটোই দ্রুত হয়। মাঝে মাঝে পাতার ওপর পানি স্প্রে করলে পাতাগুলো প্রাণবন্ত ও চকচকে দেখায়।

৬. মানি প্ল্যান্ট (পথোস)

ঝুলন্ত টব বা টবের গ্রিলে পেঁচিয়ে দেওয়ার জন্য মানি প্ল্যান্ট অত্যন্ত জনপ্রিয়। আলো-ছায়া কিংবা কড়া রোদ—উভয় পরিবেশেই এটি মানিয়ে নেয়। মাটি ও পানি দুটি মাধ্যমেই এই গাছ চারা তৈরি করে। মাটিতে রোপণ করা থাকলে ওপরের স্তর শুকানোর পর পানি দেওয়া উচিত।

৭. স্পাইডার প্ল্যান্ট

বাতাস পরিশ্রুত করার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ইনডোর প্ল্যান্টটি সরাসরি রোদে বেশ ভালো বেড়ে ওঠে। গাছটি পরিণত হলে ছোট ছোট ‘বেবি প্ল্যান্ট’ ছড়ায়, যা কেটে নিয়ে নতুন টবে সহজেই নতুন গাছ তৈরি করা যায়। তবে এই গাছের মাটি যেন একেবারেই শুকিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৮. তুলসী

ঔষধি গুণে ভরা তুলসী গাছ প্রাকৃতিকভাবে পোকামাকড় দূরে রাখতে এবং সর্দি-কাশির পথ্য হিসেবে কাজ করে। এই গাছের দৈনিক অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত রোদের প্রয়োজন হয়। তাই বারান্দার সবচেয়ে রোদঝলমলে কোণটি তুলসী গাছের জন্য একদম উপযুক্ত।

৯. জবা

প্রচণ্ড রোদেও বৈচিত্র্যময় রঙের জবা ফুল বারান্দার সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফুল দিয়ে স্বাস্থ্যকর ‘হিবিস্কাস টি’ বা জবা চা-ও তৈরি করা যায়। কড়া রোদে রাখার পাশাপাশি এতে নিয়মিত পানি ও প্রয়োজনীয় সার দিলে প্রচুর ফুল ফোটে।

১০. ক্যাকটাস ও সাকুলেন্ট

অল্প যত্নে টিকিয়ে রাখার জন্য মরুভূমির এই গাছগুলোর কোনো বিকল্প নেই। প্রচুর রোদ পেলেই এরা সবচেয়ে ভালো থাকে এবং এদের পাতায় পানি সঞ্চিত থাকায় প্রতিদিন সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কেবল টবে যেন পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা থাকে এবং গোড়ায় পানি না জমে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ঋতু পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বারান্দার বাগান সাজালে গাছগুলো যেমন প্রাণবন্তভাবে বেড়ে ওঠে, তেমনি আপনার চারপাশও ভরে ওঠে এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে। এই গ্রীষ্মে তীব্র রোদ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে, কড়া রোদ ভালোবাসে এমন গাছগুলো দিয়ে আপনার ব্যালকনির রোদেলা কোণটি সাজিয়ে তুলুন। অল্প যত্ন আর সঠিক গাছের নির্বাচনে আপনার বারান্দা হয়ে উঠুক প্রতিটি ঋতুতেই এক ফালি সবুজ স্বর্গ!

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর