Wednesday 23 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

টাকায় আমদানি-রফতানি নিষ্পত্তির সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৪৪

– ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তপারের বাণিজ্যে টাকায় আমদানি-রফতানির লেনদেন নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য বিদেশি অংশীদার দেশের ব্যাংকের নামে ‘টাকা ভস্ট্রো’ হিসাব খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

র‌বিবার (২৩ সে‌প্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১ (এফইপিডি) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নামে কোনো ধরনের প্রাথমিক বৈদেশিক মুদ্রা জমা ছাড়াই টাকা ‘ভস্ট্রো হিসাব’ খুলতে ও পরিচালনা করতে পারবে।

‘ভস্ট্রো হিসাব’ হলো বিদেশি ব্যাংকের নামে স্থানীয় কোনো ব্যাংকে খোলা হিসাব। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থায় বিদেশি অংশীদার দেশের ব্যাংকের নামে খোলা এসব হিসাবে আমদানির বিপরীতে পাওয়া টাকা জমা হবে। পরে ওই অর্থ বাংলাদেশ থেকে রফতানি মূল্য পরিশোধসহ নির্ধারিত অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যাবে।

বিজ্ঞাপন

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ধরনের হিসাবের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লেনদেন করতে হলে ঋণপত্র, চুক্তি ও চালান অবাধে রূপান্তরযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য মুদ্রায় করতে হবে। তবে চালানে উল্লেখ করা মুদ্রার মূল্য বিদ্যমান বিনিময় হারে টাকায় রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি নিরাপদ ও কার্যকর উপায়ে আদান-প্রদান করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমদানিকারকের হিসাব থেকে কিংবা আমদানিকারকের ব্যাংক ও ভস্ট্রো হিসাব পরিচালনাকারী ব্যাংক আলাদা হলে স্থানীয় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ভস্ট্রো হিসাবে অর্থ জমা করা যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকতে হবে। অন্যদিকে রফতানিকারকদের পাওনা অর্থ ভস্ট্রো হিসাব থেকে তাদের হিসাবে জমা দেওয়া বা ব্যাংক স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে।

এ ছাড়া আমদানির বিপরীতে অগ্রিম অর্থ পরিশোধ এবং রফতানির বিপরীতে রফতানিকারককে অগ্রিম অর্থ দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। রফতানির অর্থ টাকায় পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পণ্য বা সেবা উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণও টাকায় কেনার কথা বলা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শর্তে রফতানি আয় থেকে বৈদেশিক মুদ্রা রেখে দেওয়া এবং তা উপকরণ আমদানি বা রফতানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ)-এর ঋণ পরিশোধে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

ভস্ট্রো হিসাবে বাণিজ্যিক লেনদেনের পর উদ্বৃত্ত অর্থ পড়ে থাকলে তা বাংলাদেশে বিনিয়োগের কাজে ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই অর্থ সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল এবং ওপেন-অ্যান্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করা যাবে।

এ ছাড়া অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিষ্ঠানে ঋণ হিসেবে অর্থ দেওয়া এবং হিসাবধারী ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশে অর্থ পাঠানোর সুযোগও থাকবে।

তবে এসব লেনদেনের ক্ষেত্রে আমদানির জন্য আইএমপি (IMP) ফরম এবং রফতানির জন্য ইএক্সপি (EXP) ফরমের প্রচলিত নিয়ম মানতে হবে। আমদানির ক্ষেত্রে ভস্ট্রো হিসাবে অর্থ পরিশোধের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আইএমপি ফরমের মাধ্যমে জানাতে হবে। নির ক্ষেত্রেও প্রচলিত ইএক্সপি-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা ও আয় প্রত্যাবাসনের তথ্য দিতে হবে।

কোনো বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের সঙ্গে লেনদেনে ওই দেশের স্থানীয় বা অন্য কোনো অবাধে রূপান্তরযোগ্য নয়—এমন মুদ্রা ব্যবহারের প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের আগাম অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশে সেই মুদ্রায় নস্ট্রো হিসাব রাখার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, বিদেশি কোনো ব্যাংকের সঙ্গে টাকা ভস্ট্রো ব্যবস্থা চালু করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এডি ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ওই ব্যবস্থার বিস্তারিত জানাতে হবে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নাম, দেশ এবং কী ধরনের লেনদেন নিষ্পত্তি হবে—এসব তথ্য দিতে হবে। পাশাপাশি বিদেশি অংশীদার ব্যাংকের যথাযথ যাচাই, গ্রাহক সম্পর্কে জানুন বা কেওয়াইসি এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের (এএমএল/সিএফটি) নিয়ম মানতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর