Wednesday 04 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৪ নভেম্বর ২০২৬ ২৩:১৬

– ছবি : প্রতীকী

ঢাকা: বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে নিলামের মাধ্যমে ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দীর্ঘ বিরতির পর গত সপ্তাহেও ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নিলামে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে একক বিডে সর্বনিম্ন ৫ লাখ ডলার কেনার আবেদন করতে বলা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম আহ্বান করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই নিলামে অনেক ব্যাংক অংশ নিলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। তবে কী কারণে নিলাম বাতিল করা হয়েছিল, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে। এর বিপরীতে সরবরাহের চাপ তৈরি হওয়ায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দরও বাড়ছে। এ অবস্থায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

একসময় বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত প্রায় তিন বছর ধরে এভাবে ডলার বিক্রি করা হয়। এতে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করা রিজার্ভ কমতে কমতে ২০২৪ সালের আগস্টে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি না করার ঘোষণা দেন। বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পরও একই নীতি বজায় রাখেন। এর ফলে রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়সহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ায় রিজার্ভে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। পরে গত ১ সেপ্টেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে। তবে এরপর থেকে রিজার্ভ আবার কমতে শুরু করে। গত মঙ্গলবার রিজার্ভ নেমে আসে ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে।

এ অবস্থায় আবারও রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সপ্তাহে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং বুধবার আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ইসরায়েলে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও ডলারের দাম কমেছে। বাংলাদেশেও চলমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দামের পাশাপাশি দেশের আমদানি চাহিদা ডলারের বাজারে চাপ তৈরির অন্যতম কারণ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর ১২৪ টাকা ছাড়িয়েছে। গত দুই দিন আন্তঃব্যাংকে প্রতি ডলার ১২৪ টাকা ৭০ পয়সা দরে বিক্রি হয়েছে। এর আগের দুই দিন বিক্রি হয়েছিল ১২৪ টাকা ৩০ পয়সায়।

এর আগে গত অক্টোবরের শুরুতে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ছিল ১২৩ টাকা। সেখান থেকে ধীরে ধীরে বেড়ে মাসের শেষ কর্মদিবসে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সায় ওঠে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের দর ১২১ থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে চলতি বছরের মার্চের পর থেকে ডলারের দর বাড়তে শুরু করে। কয়েক মাসের ব্যবধানে তা এখন ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সায় পৌঁছেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে আমদানি ব্যয় মেটাতে ডলারের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার ছাড়তে হচ্ছে। এতে বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও দীর্ঘ মেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে রফতানি আয় ও প্রবাসী আয় বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি ব্যয়ের ওপরও নজর দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর