Wednesday 23 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ: আরও ১৫ জনের ৩ দিনের রিমান্ড

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪২ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৮

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেফতার আরও ১৫ আসামির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন ১৫ আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন—ছাত্রলীগ কর্মী নীরব খান (২২), ঠাকুরগাঁও শহর আওয়ামী লীগ সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম (৫২), পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুবলীগ সদস্য মো. জুয়েল শিকদার (৩৩), ভাটারা থানা যুবলীগ সদস্য মো. শাহেদ (৩৯), ঢাকা মহানগর উত্তর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ কর্মী শান্ত শেখ (২৮), ঢাকা মহানগর উত্তর ২০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সদস্য মো. হারুন মাইজভান্ডারী (৫৫), লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক খালেদ মাহমুদ ফয়সাল (৪০), ঢাকা মহানগর উত্তর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. শফিকুর রহমান (৫০), চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য মো. বিল্লাল গাজী (৩৫), তাড়াইল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. ইসমাইল সিরাজী (৩২), ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রলীগের কর্মী মো. আরিফুর রহমান দীপু (২৭), বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি মো. ইদ্রিসুল আলম (৫৫), বাড্ডা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন মামুন (৫০), জাতীয় শ্রমিক লীগের ভাটারা থানা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ (৪৩) এবং আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য মো. মোজাম্মেল হক (৭৫)।

বিজ্ঞাপন

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তিনদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ বলেছে, মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। ককটেল বিস্ফোরণের মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, ষড়যন্ত্রকারী এবং অর্থের জোগানদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়া দরকার।

এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য জানা এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ সেপ্টেম্বর বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানা এলাকায় কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, এ সময় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশের দিকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। একপর্যায়ে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল জব্দ করার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সারাবাংলা/টিএম/এআর
বিজ্ঞাপন

আমলে অলসতা দূর করার উপায়
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:০৯

আরো

সম্পর্কিত খবর