জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ দিনের পথচলায় অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন জামাল ভূঁইয়া। এখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তার সামনে নতুন লক্ষ্য—বাংলাদেশকে নিয়ে আরও বড় মঞ্চে পৌঁছানো। সেই স্বপ্নের পথে আপাতত সামনে ফিফা আসিয়ান কাপ। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের লক্ষ্য অন্তত ৩ থেকে ৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করা।
আজ মাঠে গড়াচ্ছে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপ। আগামীকাল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে বাংলাদেশ। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের অন্য দুই প্রতিপক্ষ সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া। গ্রুপের চার দলের মধ্যে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ—১৮১ নম্বরে। ইন্দোনেশিয়া ১১৮, মালয়েশিয়া ১৩৬ এবং সিঙ্গাপুর রয়েছে ১৪৮ নম্বরে।
র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধানকে পাশ কাটিয়েই নিজেদের লক্ষ্য ঠিক করেছে বাংলাদেশ। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামাল বলেন, ‘অবশ্যই এই টুর্নামেন্টে ভালো করতে এবং ভালো পারফর্ম করতে আমাদের প্রত্যাশা আছে। জাকার্তায় বড় দর্শকের সামনে খেলার জন্য আমরা সত্যিই মুখিয়ে আছি।’
গ্রুপের শক্তির হিসাবটা বাংলাদেশের অধিনায়কের অজানা নয়। বরং সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই পয়েন্টের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তারা। জামালের ভাষায়, ‘আমরা জানি, গ্রুপে আমরাই সবচেয়ে নিচের র্যাঙ্কিংয়ের দল। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের পর আমাদের অবস্থান। কিন্তু আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা আছে, দেশেরও প্রত্যাশা আছে। আমরা তিন বা চার পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছি। আর ফুটবলে এরপর কী হয়, তা তো কখনোই বলা যায় না।’
প্রথমবার আয়োজিত এই আসরে মোট আট দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলছে। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন। দুই গ্রুপের শীর্ষ দল খেলবে ফাইনালে। আর রানার্সআপ দুটি দল লড়বে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।
শুধু আসিয়ান কাপ নয়, এই টুর্নামেন্টে থেকে আরও বড় স্বপ্ন দেখছেন জামাল, বিশ্বকাপ। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখার স্বপ্ন তার। জামাল বলেন, ‘বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশে যে কী উন্মাদনা হয়, তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। ঢাকার প্রতিটি ভবনে বিভিন্ন দলের পতাকা ওড়ে, বড় পর্দায় ২০-৩০ হাজার মানুষ একসঙ্গে খেলা দেখে। একবার ভাবুন তো, আমরা যদি সত্যিই বিশ্বকাপে খেলতে পারি… সেই উন্মাদনার মাত্রাটা কোথায় গিয়ে ঠেকবে!’
সেই বড় স্বপ্নের আগে অবশ্য আসিয়ান কাপেই নিজেদের পরীক্ষা দিতে হবে বাংলাদেশকে। মালয়েশিয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলবে জামালের দল। শক্ত দল নিয়েই আসিয়ান খেলতে গেছে বাংলাদেশ। দেখা যাক, এই টুর্নামেন্টে জামাল-হামজারা কতদূর এগুতে পারেন।