Thursday 24 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রাজনৈতিক সমালোচনা কঠোর হলেও ভাষা যেন শালীন হয়: রিজভী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৩৭

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: রাজনৈতিক সমালোচনায় শালীনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কঠোর সমালোচনা করা যেতে পারে, তবে ব্যক্তিগত অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, অতীতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অবমাননাকর ভাষায় সম্বোধনের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক বক্তব্যে কঠোরতা থাকতে পারে, তবে তা মার্জিত ভাষায় হওয়া দরকার।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে আপসহীন ছিলেন। নানা নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। গাজীর মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে জীবদ্দশায় তিনি শেখ হাসিনা সরকারের পতন দেখে যেতে পেরেছেন—এটি তার কাছে কিছুটা সান্ত্বনার বিষয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় রুহুল আমিন গাজীর ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন ও হয়রানি হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে আমিও উপস্থিত ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংকটের সময় প্রেস ক্লাব অনেক ক্ষেত্রে বিরোধী মতপ্রকাশ ও কর্মসূচি পালনের একটি পরিসর তৈরি করেছিল। তবে একপর্যায়ে প্রেস ক্লাবও সরকারি চাপের বাইরে থাকতে পারেনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার থাকতে হবে। বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তাদের কর্মসূচি পালনের অধিকারকে সম্মান করা উচিত।

সাম্প্রতিক লংমার্চের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন বিরোধী দলের কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া না হয়। গণতন্ত্র যদি আমরা বিশ্বাস করি, তাহলে বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি করবে, কথা বলবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশকে কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের ‘পেছনের উঠান’ হিসেবে পরিণত করা উচিত নয়। দেশের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকেই নির্ধারণ করতে হবে এবং অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিজেদের সক্ষমতায় মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিও থাকবে। তবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মতো মৌলিক প্রশ্নে ন্যূনতম ঐকমত্য থাকা জরুরি। ভবিষ্যতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের কর্তৃত্ববাদী পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর