ঢাকা: আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম রোধ, অনুসন্ধান এবং তাৎক্ষণিক বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন গঠিত অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাজকে যেন সরাসরি ‘বিচারিক কাজ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, সেজন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি দিয়েছে তারা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২-এর ৯১এ এবং ৯১এএ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সিভিল জজদের সমন্বয়ে মোট তিনটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিগুলোর প্রধান কাজ হবে নির্বাচনী এলাকায় কোনো অনিয়ম ঘটে থাকলে তা অনুসন্ধান করা এবং সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় নির্বাচনী অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্ন করা।
নবগঠিত এই তিন কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন অংশ তদারকি করবেন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দায়িত্বে থাকছেন ঠাকুরগাঁওয়ের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমা, রুহিয়া উপজেলার দায়িত্বে থাকছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল জজ মো. তোসিকুল আলম এবং ভূল্লী উপজেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রংপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ দেওয়ান মনিরুজ্জামানকে।
নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা নির্ধারিত নির্বাচনি এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করে দায়িত্ব পালন করবেন। এই সময়কালে কোনো অনিয়ম সংঘটিত হলে তারা দ্রুত অনুসন্ধান শেষ করে তিন দিনের মধ্যে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে বিস্তারিত প্রতিবেদন জানাবেন। বিচারিক কর্মকর্তারা যেন নির্বিঘ্নে এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং এটিকে বিচারিক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়, তা নিশ্চিত করতেই ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ দিদারুল হোসাইনের স্বাক্ষরে সুপ্রিম কোর্টে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল, ২৯ সেপ্টেম্বর বাছাই, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর আপিল আবেদন ও ৬ অক্টোবর তা নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দের পর নির্ধারিত ২৯ অক্টোবর নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য কমিশন যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।