শখের বশে কিংবা টাটকা মরিচের স্বাদ পেতে অনেকেই টবে মরিচ গাছের চারা রোপণ করেন। গাছটি বেশ দ্রুত সতেজ হয়ে ওঠে এবং একসময় সুন্দর ফুলে ভরে যায়। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন সেই ফুলগুলো ঝরে পড়ে, অথচ ডালপালায় একটি মরিচও দেখা দেয় না! যদি আপনার গাছের অবস্থাও এমন হয়, তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সামান্য কিছু ভুল শুধরে নিয়ে একটু ভিন্নভাবে যত্ন নিলেই গাছ ভরে উঠবে কচি সবুজ মরিচে।
আসুন জেনে নেই, গাছের সঠিক বৃদ্ধি ও বাম্পার ফলন নিশ্চিত করার নানান উপায়…
সঠিক টব ও পানি নিষ্কাশন: মরিচ গাছের জন্য বিশাল টবের প্রয়োজন নেই, মাঝারি আকৃতির মাটি বা প্লাস্টিকের টবই যথেষ্ট। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো টবের নিচের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। টবের নিকাশি ছিদ্রে ইটের টুকরো বা খোলামকুচি দিয়ে তার ওপর বালির স্তর দিন। এতে গাছের গোড়ায় পানি জমে শিকড় পচে যাওয়া রোধ হবে।
সূর্যালোকের ভারসাম্য: মরিচ গাছ রোদ খুব পছন্দ করে। তাই দিনে অন্তত কয়েক ঘণ্টা ভালো রোদ পায় এমন জায়গায় টব রাখুন। তবে চড়া ও তীব্র রোদে দীর্ঘক্ষণ রেখে দিলে গাছ ঝিমিয়ে পড়তে পারে এবং ফুল ঝরে যেতে পারে। প্রখর দুপুরে গাছকে হালকা ছায়ায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
পরিমিত পানি দেওয়া: মরিচ গাছে নিয়মিত পানি দেওয়া দরকার, তবে গোড়া যাতে স্যাঁতসেঁতে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। পানি দেওয়ার আগে মাটির উপরিভাগ শুকিয়েছে কিনা পরীক্ষা করে নিন। অতিরিক্ত পানি দিলে ফুল ঝরে যায়। তীব্র গরমে দিনে দুই বার হালকা করে পানি দিতে পারেন।
পুষ্টি ও সার প্রয়োগ: অর্গানিক উপায়ে ঘরেই মরিচ গাছের সার তৈরি করা যায়। রান্নাঘরের তরকারির খোসা পচানো সার, চাল-ডাল ধোয়া পানি গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। জৈব সারের পাশাপাশি ১৫ দিন অন্তর সমপরিমাণ পটাস, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট বা পরিমিত ইউরিয়া ব্যবহার করলে গাছে প্রচুর ফল ধরে।
পোকা দমন ও সাপোর্ট: মরিচ গাছে অনেক সময় পিঁপড়ে, মাকড়সা বা জাব পোকার আক্রমণ ঘটে। পোকা তাড়াতে নিয়মিত নিম তেল পানিতে গুলে স্প্রে করুন। এ ছাড়া গাছটি সোজা রাখতে এবং মরিচের ভারে নুয়ে পড়া ঠেকাতে গোড়ায় একটি শক্ত লাঠি পুঁতে হালকা করে বেঁধে দিন।
টিপস
* মাটির বা প্লাস্টিকের যেকোনো মাঝারি সাইজের পাত্র বা টবেই মরিচ গাছ চমৎকার বাড়ে।
* সকালের মিষ্টি রোদ মরিচ গাছের পরম বন্ধু, তবে দুপুরের কড়া রোদ থেকে বাঁচিয়ে রাখা ভালো।
* তরকারির খোসা ভেজানো জল ও চাল ধোয়া পানি মাটির উর্বরতা বাড়াতে চমৎকার কাজ করে।
* গোড়ার মাটি হাত দিয়ে ধরে শুষ্ক মনে হলেই পানি দিন, স্যাঁতসেঁতে মাটিতে ফুল পচে যায়।
* ঘরোয়া নিম তেলের স্প্রে ব্যবহার করলেই পিঁপড়ে ও মাকড়সার উপদ্রব থেকে গাছ রেহাই পায়।