Saturday 03 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সাতক্ষীরায় ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি, পানিতে মাছ চাষ

মৃত‌্যুঞ্জয় রায়
৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৭

ঘেরের বেড়িবাঁধের সবজি খেতে কাজ করছেন একজন চাষি।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি চাষ করে বাড়তি আয় করছেন কৃষকেরা। একদিকে ঘেরে লবণাক্ত পানিতে চিংড়ি মাছ, অন্যদিকে বেড়িবাঁধের জমিতে লাউ, কুমড়া, শসা, বরবটি, পুঁইশাক, ঢ্যাঁড়স, বেগুনসহ নানা ধরনের সবজি। জমি ও পানির সমন্বিত ব্যবহারে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে সরবরাহ হচ্ছে বিষমুক্ত ও তাজা সবজি।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, আশাশুনি, তালা, দেবহাটা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের সমন্বিত চাষাবাদ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার কারণে যেসব জমিতে প্রচলিত ফসল উৎপাদন কঠিন, সেখানে ঘেরের বেড়িবাঁধকে কাজে লাগিয়ে সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাছের ঘেরের চারপাশের উঁচু বেড়িবাঁধে বাঁশের মাচা তৈরি করে লাউ, কুমড়া ও শসার লতা ঝুলছে। কোথাও সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়েছে মরিচ, বেগুন, ঢ্যাঁড়স ও বরবটি। নিচে ঘেরের পানিতে চিংড়ি, রুই, কাতলা, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে জানা যায়, জেলায় এ বছর ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি চাষ হয়েছে ২১৬৩ হেক্টর জমিতে। যা আগের গত দুই বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৩ সালে জেলায় ঘেরের পাড়ে সবজির আবাদ ছিল ৯৪০ হেক্টর জমিতে। ২০২৪ সালে বেড়ে আবাদ হয় ২০৭৭ হেক্টর জমিতে। যা বছরে বছরে বৃদ্ধি পেতে থাকছে।
এবছর হেক্টরপ্রতি ১৮ টন করে ফলন পাচ্ছে ঘেরের বেড়িবাঁধে। যার বর্তমান দাম হিসাবে হেক্টরপ্রতি আমরা ৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার মতো আয় করছেন কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ জানায়, সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মাছের ঘেরের সঙ্গে বেড়িবাঁধে সবজি চাষ একটি কার্যকর উদ্যোগ। তবে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চাষাবাদে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘেরের পানির গুণগত মান ঠিক রাখা এবং মাটি ও পানিতে লবণাক্ততার প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ফসল নির্বাচন করলে লাভবান হওয়া যাবে।

সাতক্ষীরা তালা উপজেলার কলাগাছি গ্রামের স্থানীয় কৃষক চঞ্চল রায় বলেন, আগে ঘেরে শুধু মাছ চাষ করতাম। কিন্তু বারবার লস হতে থাকে। এই দুই বছর ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি চাষ করছি। মোটামুটি এখন দুইদিকে ভালো লাভ পাচ্ছি।

বেড়িবাঁধে লাগনো গাছে ঝুলছে করল্লা।

একই গ্রামের ধর্ম রায় নামের কৃষক বলেন, ঘেরের চারপাশের বাঁধের জমি আগে অনেকটাই খালি পড়ে থাকত। এখন সেখানে সবজি চাষ করছি। ঘের থেকে মাছ বিক্রি করি, আবার বাঁধের সবজিও বাজারে বিক্রি হয়। সবজিতে এ বছরে আমার খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। তবে এই পর্যন্ত আমি সবজি বিক্রি করেছি ৫০ হাজার টাকা। এতে একই জায়গা থেকে দুই দিকের আয় হচ্ছে এবং দুইদিকে সমান লাভবান পাচ্ছি।

অন্যদিকে একই গ্রামের ঠাকুর মন্ডল নামের কৃষকের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি, লবণাক্ততা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে চাষাবাদে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এ বছর অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেকের সবজি রোদে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অনেকেই তারা নতুন করে আবার পুনরায় বীজ রোপণ করছেন।

তিনি আরও বলেন, এ বছর আমার চাষাবাদ করতে খরচ হয়েছে ৫ বিঘা জমিতে ৫০ হাজার টাকা। তবে ফসল বিক্রি করেছি এই পর্যন্ত মাত্র ১০ হাজার টাকা। এ বছর আমার ফসল সব মারা গেছে। জানি না খরচ তুলতে পারব কিনা। তবে আগেরবার সবজি চাষ করে লাভ ছিল।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, সাতক্ষীরায় ঘেরের বেড়িবাঁধে সবজি চাষ দিন দিন যে বেড়েই চলেছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সব সময় উদ্বুদ্ধ করছি এবং আমাদের কয়েকটা প্রকল্প আছে এগুলোতে আমরা বীজ সরবরাহ করে থাকি। অনেক সময় আমরা আবার একটু গ্রীষ্মকালীন বা অফ সিজন তরমুজও দিয়ে থাকি। কৃষকরা যাতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে পারে সে বিষয়ে আমরা সব সময় পরামর্শ দিয়ে থাকি।

তিনি আরও বলেন, কৃষকের ঘেরে মাছ চাষ করার ক্ষেত্রে যে আপনার খরচটা হয় সেটা অনেকটা উঠে আসে সবিজ থেকে। ফলে কৃষকের ইনভেস্টমেন্ট কম কমে গিয়ে আপনার লাভের পরিমাণটা বেড়ে যায়। ফলে বেশির ভাগ কৃষকরা এখন মাছ চাষের পাশাপাশি এখন ঘেরের বাঁধে সবজি চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছে।

সারাবাংলা/এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

মৃত‌্যুঞ্জয় রায় - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর