Saturday 03 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পর্যায়ক্রমে শহরের সব ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে: ডিএনসিসি প্রশাসক

‎সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:১৯

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: রাজধানীর বাসিন্দাদের চলাচলের পথ সুগম করতে যেখানেই প্রয়োজন হবে, সেখানেই অবৈধ ফুটপাত উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)-এর প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে শহরের সব ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।
‎
‎শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
‎
‎ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদার সরিয়ে দিতে আগে থেকে কাউকে অবহিত করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করা এবং তাদের চলাচলের পথ সুগম করার স্বার্থে সিটি করপোরেশন যেকোনো সময় স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
‎
‎শহরকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ করার লক্ষ্যমাত্রার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে গত তিন মাস ধরে প্রতি শনিবার নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে, কারণ পরিচ্ছন্ন পরিবেশে এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। তিনি সকলকে নিজ নিজ বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও পরিত্যক্ত স্থানে অভিযানে এখনও লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।
‎
এ সময় প্রশাসক জানান, বর্তমানে উত্তর সিটি এলাকার হাসপাতালগুলোতে প্রায় ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। তবে তাদের মূল লক্ষ্য হলো মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে আনা, যেন কাউকে হাসপাতালে ভর্তি হতে না হয়। ৯০০ দিনের ঘোষিত রূপরেখা মেনে বাড়ি মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ চলছে।
‎
‎সম্প্রতি মিরপুরের অভিযানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মিরপুর-১০ থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘদিনের দখল হয়ে থাকা ফুটপাত স্থানীয়দের সহায়তায় মুক্ত করা হয়েছে। পুনরায় যেন কেউ বসতে না পারে, সেজন্য স্থানীয় বাসিন্দা, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে একটি তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা চার বেলা সেখানে নজরদারি ও মাইকিং করছে। ফার্মগেটসহ শহরের অন্যান্য যেসব জায়গায় একই সমস্যা রয়েছে, সেখানেও ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হবে।
‎
‎ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজিতে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি নিজে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং সহকর্মীদের সাথেই ফুটপাত মুক্ত করার কাজ করছেন। অনিয়ম, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। অপকর্মকারী দলের ভেতরের হোক বা বাইরের, কাউকেই কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
‎
‎সবশেষে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ফুটপাত দখলের খবরের পাশাপাশি উচ্ছেদের পর সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও প্রতিক্রিয়াও যেন সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা হয়, যাতে জনগণের মাঝে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পায়।

বিজ্ঞাপন