Saturday 03 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

একদিনে ইলন মাস্কের সম্পদ বাড়ল ৬১ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ অক্টোবর ২০২৬ ২০:০১

শ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ আবারও ১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ কোটি ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক দিনেই তার সম্পদ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। ফলে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৯৭ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) ফোর্বস-এর রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মাস্কের সম্পদে এই বড় উল্লম্ফনের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে তার মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পেসএক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি।

শুক্রবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় কোম্পানিটি কয়েকটি মহাকাশযান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই দিনে টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

টেসলার শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে গাড়ি সরবরাহের নতুন পরিসংখ্যান। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এর ফলে টানা তৃতীয় বছর গাড়ি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হবে, এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

শুক্রবার এক দিনে মাস্কের সম্পদ যে পরিমাণ বেড়েছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় তার পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তুলনা করলে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক দিনেই মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশের সমান।

ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় ইলন মাস্ক এখনো বিশ্বের শীর্ষ ধনী। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭ হাজার ৭০ কোটি ডলার।

এর আগেও একাধিকবার ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের সীমা অতিক্রম করেছিলেন মাস্ক। গত ১২ জুন অল্প সময়ের জন্য বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে তিনি পরিচিত হন। ওই দিন তার সম্পদের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছিল।

মাস্কের সম্পদ দ্রুত বাড়তে শুরু করে মূলত স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে। গত জুনে স্পেসএক্সের শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু হলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। এর প্রভাব পড়ে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদেও এবং তিনি ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেন।

তবে জুনের শেষ দিকে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে গেলে মাস্ক আবার ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা হারান। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির কারণে মাস্কের ১১৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার তার সম্পদের হিসাব থেকে বাদ দেয় ফোর্বস।

এরপর ২৯ জুন তিনি আবার সাময়িকভাবে ট্রিলিয়নিয়ারের মর্যাদা ফিরে পান। কিন্তু ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় আবারও সেই সীমার নিচে নেমে যান। জুলাইয়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেলে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণও ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে যায়।

বর্তমানে স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের মূল্য আবার বাড়তে থাকায় মাস্কের সম্পদও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে তিনি ফের ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন।