ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অবদান রাখা শ্রমজীবী মানুষ এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতামত বিনিময় সভা করেছে জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা, জুলাই সনদে থাকা সংবিধান সংস্কারের রূপরেখা এবং বিএনপির দলীয় নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধানে পরিবর্তনের যেসব দফা ছিল তা বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। সংবিধানে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অংশীজনদের এই মতামত গ্রহণ কর্মসূচি নতুন বাংলাদেশের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির এই ৫ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত নীতিনির্ধারণী এই বৈঠকে চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, সাকিলা ফারজানা এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আমন্ত্রিত সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, আন্না মিনজ ও মাধবী মারমাসহ উপস্থিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও শ্রমজীবী প্রতিনিধিরা সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের ওপর নিজেদের লিখিত ও মৌখিক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
বৈঠক শেষে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, আলোচনায় উঠে আসা সব প্রস্তাব এবং পরবর্তীতে জমা হওয়া লিখিত সুপারিশসমূহ কমিটি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ধারাবাহিকভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, নারী নেতৃত্ব, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়কদের সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকগুলোতে বিস্তারিত আলোচনা পরিচালনা করা হবে। গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধান করে গঠিত ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি ধারাবাহিক পর্যালোচনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত চূড়ান্ত সুপারিশমালা পেশ করবে।