Tuesday 06 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সদরঘাটে জবি শিক্ষার্থী-লঞ্চকর্মীদের হাতাহাতি, ২০ হাজার টাকায় মীমাংসা

জবি করেসপন্ডেন্ট
৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:২৮

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল।

জবি: রাজধানীর সদরঘাটে লঞ্চে প্রবেশকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি, মারধর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে জবি ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয় বলে জানা গেছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর সদরঘাটের ৪ নম্বর টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিককে হেনস্তা, ধাক্কাধাক্কি ও জোর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে দুই শিক্ষার্থী ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় লঞ্চ কর্মীরা তাদের বাধা দিলে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই দুই শিক্ষার্থীর একজন লঞ্চের এক কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ঘটনাস্থলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল, ইতিহাস বিভাগের ১৮তম ব্যাচের সাইদ ও নাইম, থিয়েটার বিভাগের ১৮তম ব্যাচের নাইম, আইইআর বিভাগের ১৮তম ব্যাচের তাজ এবং আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ১৮তম ব্যাচের বহিষ্কৃত ছাত্রদল কর্মী শের আলী ছিলেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সৈকত, কাব্য, ইমন, আসিফ ও আলিমুল জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে লঞ্চ কর্মীদের ফের ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি হয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও লঞ্চ কর্মী আহত হন। এ সময় লঞ্চের কয়েকজন কর্মীর মুঠোফোন ভাঙার অভিযোগও ওঠে।

ঘটনার পর মুঠোফোন ভাঙা ও চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে লঞ্চ মালিক সমিতির কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এ সময় ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয় বলে জানা গেছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের এক কর্মী বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিয়ে কিছু শিক্ষার্থী প্রায়ই সন্ধ্যা বা রাতে লঞ্চে এসে গাঁজা ও বিভিন্ন মাদক সেবন করেন। এ কারণে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে লঞ্চে প্রবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা লঞ্চ মালিক সমিতির অফিসে বসি। সেখানেও এক দফা কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বৈঠকে ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।’

‘প্রিন্স আওলাদ’ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. জিল্লু বলেন, ‘আর্থিক লেনদেনে কত টাকা নিয়েছে, সেটা আমি বলতে পারছি না। তবে তারা বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন। পুরান ঢাকা, বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রদূত ও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই আমরা চাই, কেউ যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট না করে।’

লঞ্চটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুবরাজ হোসেন বলেন, ‘আজকের ঘটনার পর আমরা একসঙ্গে বসেছিলাম। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ছাড়া যেন কেউ লঞ্চে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’

এদিকে, মীমাংসার নামে টাকা দাবির বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় বাংলাদেশ বুলেটিনের জবি প্রতিনিধি আকাশ আহমেদ রুপম ও পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিবের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছাত্রদল কর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের জোর করে ঘটনাস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পাবলিক নিউজের জবি প্রতিনিধি এটিএম হাসনাত হাবিব বলেন, ‘আমরা যখন ভেতরে প্রবেশ করি, তখন সেখানে একটা মিটিং চলছিল। আমরা আমাদের পরিচয় দিই এবং জানাই যে সাংবাদিকতার কাজ নিয়ে এসেছি। পরিচয় দেওয়ার পর সেখানকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারা উচ্চবাচ্যে প্রশ্ন তোলে এখানে সাংবাদিক কে ডেকেছে?’ এবং আমাদের অবিলম্বে বের হয়ে যেতে বলা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরি এবং সাংবাদিকতার আইডি কার্ডও দেখাই। কিন্তু তারা তা তোয়াক্কা না করে এক ধরনের মব সৃষ্টি করে আমাদের হেনস্তা শুরু করে। পরে ধাক্কাধাক্কি করতে করতে জোরপূর্বক আমাদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।’

এ বিষয়ে জবি ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত নই। যদি ছাত্রদলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ টাকা দাবি করে থাকে, তাহলে ছাত্রদল এর দায়ভার নেবে না। তারা ছাত্রদলের কর্মী নয়। আর যদি ছাত্রদলের কেউ জড়িত থাকে, তাহলে ছাত্রদল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’

 

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর