Wednesday 07 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আবরার হত্যার ৭ বছর: দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি পরিবারের

আল-আমিন খান রাব্বি
৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১২ | আপডেট: ৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১৩

কুষ্টিয়ার সন্তান আবরার ফাহাদ।

কুষ্টিয়া: বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত হন কুষ্টিয়ার সন্তান আবরার ফাহাদ।

সন্তানের মৃত্যুর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং আদালতের দেওয়া রায় কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবরারের পরিবার। দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে রায় কার্যকরের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশে আবরার ফাহাদের বাড়ি। ঘরের শোকেসে এখনো সাজানো রয়েছে তার ব্যবহৃত মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র। আগের মতোই রয়েছে তার বিছানা ও পড়ার টেবিল। শুধু নেই আবরার। ছেলের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও অসংখ্য স্মৃতি আঁকড়ে ধরে দিন কাটছে মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহর। সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি এখনো তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।

বিজ্ঞাপন

ছেলের কথা মনে পড়লে পুরোনো ছবিগুলো দেখেন মা।

মা রোকেয়া খাতুন সারাবাংলাকে বলেন, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া থেকে বুয়েটের উদ্দেশে বাসে তুলে দিয়েছিলাম। কে জানতো এই দিনই আমার ছেলের সঙ্গে শেষ দেখা। এই বিদায় যে জীবনের শেষ বিদায় হয়ে যাবে, তা জানলে ছেলেকে আর পাঠাতাম না।

সেদিন রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে আবরার ফাহাদকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বাবা বরকত উল্লাহ সারাবাংলাকে বলেন, আমার ছেলে হত্যার সাত বছর পার হলেও আদালতের দেওয়া রায় পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছে। আমরা শুধু দিন গুনছি, কবে রায় পুরোপুরি কার্যকর হবে।

এদিকে নাতির হত্যার বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় রয়েছেন আবরারের ১০৫ বছর বয়সি দাদা আব্দুল গফুর। জীবদ্দশায় নাতি আবরার ফাহাদ হত্যার রায় কার্যকর দেখে যেতে চান তিনি।

আবরারের ছবি প্রতিদিন যত্ন করে মুছে রাখেন বাবা।

আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পরও ঘটনাটি কুষ্টিয়াবাসীর মনে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে দ্রুত রায় কার্যকর এবং আবরারের স্বপ্নের বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শহিদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা সুলতান মারুফ তালহা সারাবাংলাকে বলেন, আবরার ফাহাদ হয়ত তার আদর্শ, স্মৃতি ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন। কিন্তু মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ আর কোনোদিন ফিরে পাবেন না তাদের সন্তানকে। আমরা সবসময় প্রত্যাশা করি আদালতের রায় যেন দ্রুত পুরোপুরি কার্যকর হয়।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর