পাবনা: আজ ১০ অক্টোবর (শনিবার) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এদিকে চিকিৎসক সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে পাবনা মানসিক হাসপাতাল। ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ৩১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও শূন্য পদ ১২। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীদের।
দেশের মানসিক রোগীদের জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৫৭ সালে পাবনার হেমায়েতপুর স্থাপিত হয় ৫০০ শয্যা পাবনা মানসিক হাসপাতাল। দীর্ঘ ৫ দশকেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি মানসিক হাসপাতালটিতে। ৩১ জন চিকিৎসা থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ২০ জন আর ১২টি পদই শূন্য। এ ছাড়া হাসপাতালের ৬৪৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৫১ জন। ফলে চিকিৎসক ও কর্মচারীর অভাবে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

কয়েক ধাপে শয্যা সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি হাসপাতালের চিকিৎসক। ফলে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। এছাড়াও হাসপাতালে ছারপোকার উপদ্রব বাড়ায় অতিষ্ট নার্স ও রোগীরা। এছাড়াও ঔষধ সংকটসহ ব্লাড ও ইউরিন পরিক্ষা ছাড়া কোনো টেস্ট হয় না হাসপাতালে।
হাসপাতালে একজন স্টাফ নার্স বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব ও পুরনো জিনিসপত্র দিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম এতে হাসপাতালে দেখা দিয়েছে ছারপোকার উপদ্রব্য। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় রোগী ও স্টাফ নার্সরা।

দেশের দূরদূরান্ত থেকে আশা সাধারণ রোগীদের অভিযোগ বহির্বিভাগে পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ ও মেডিকেল টেস্টের ব্যবস্থার পাশাপাশি মানসিক হাসপাতালটির আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থার দাবি করেন।
বহির্বিভাগের চিকিৎসা দিতে আশা শাহীন বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই মানসিক হাসপাতালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মনোরোগ্য মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণ ঔষধ ও চিকিৎসা না পাওয়ার আক্ষেপ করেন তিনি।
পাবনা মানসিক হাসপাতাল ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. এ. কে. এম শফিউল আযম বলেন হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন,ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে। পাবনা মানসিক হাসপাতাল আন্তর্জাতিক মানের করার লক্ষ্যে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে।