Monday 12 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নেপালে ফের বন্যা: ভেসে গেল ঘরবাড়ি-সেতু, নিখোঁজ ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১২ অক্টোবর ২০২৬ ১১:১৪ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:১১

নেপালের ত্রিশূলী নদীতে ভয়াবহ বন্যার রেশ স্থানীয়রা এখনও কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। ছবি: বিবিসি।

নেপালে ভয়াবহ বন্যার কয়েক সপ্তাহ পার না হতেই আবারও নতুন করে এক আকস্মিক বন্যা আঘাত হেনেছে। মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা এ বন্যায় এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া, অনেক ঘরবাড়ি ভেসে গেছে এবং বিভিন্ন জায়গায় সেতু ভেঙে পড়ছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, রোববার (১১ অক্টোবর) মধ্যাঞ্চলীয় গোর্খা জেলায় আকস্মিক এ বন্যা দেখা দেয়।

নিখোঁজ পাঁচজনের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন নেপালি কর্মকর্তারা। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ৯৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং পরিবারগুলোকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হয়েছে। অনেকেই এখন আশ্রয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এর কারণ এখনো অস্পষ্ট-কারও কারও মতে, ভূমিধসের ফলে নদী বা এর কোনো উপনদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে গিয়েছিল এবং পরে সেই জমাটবাঁধা পানি হঠাৎ প্রবল বেগে বেরিয়ে আসে। আবার অন্যদের মতে, উজানের স্থানীয় বাসিন্দারা বরফের ধস (আইস-অ্যাভাল্যাঞ্চ) হতে দেখেছিলেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (পশ্চিমে গোর্খা জেলার চুমনুব্রি গ্রামে ভূমিধসের ফলে বুড়ি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে ভাটির দিকের এলাকাগুলোতে বন্যা দেখা দেয়।

বন্যা-সংক্রান্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কীভাবে তীব্র স্রোত একটি উপত্যকা দিয়ে ধেয়ে এসে পুরো একটি ভবন-কমপ্লেক্স ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সেনাবাহিনীরা হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। বিবিসি

কর্মকর্তারা এখনও কোনো হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে যে এই দুর্যোগে চুমানুব্রি গ্রামীণ পৌরসভা এলাকাটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পৌরসভার চেয়ারম্যান নিমা লামা জানিয়েছেন, অন্তত দুটি গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি সেতু ভেসে গেছে।

নিমা জানান, নিখোঁজ পাঁচজন সম্ভবত গবাদি পশু পালনকারী। এছাড়া প্রায় ১০০টি গরুও নিখোঁজ হয়েছে।

সহকারী প্রধান জেলা কর্মকর্তা নেত্র প্রসাদ শর্মার তথ্যমতে, গোর্খা জেলাজুড়ে শত শত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববারের বন্যায় ২০৪টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা নয়জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৯৫ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। আকস্মিক বন্যার পর নিরাপত্তা বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোর্খা জেলায় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য ৭০০-এরও বেশি সদস্য মোতায়েন করেছে।

নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য চারটি হেলিকপ্টার কাজে লাগিয়েছে।

সেনাবাহিনী আকাশপথেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, ভূমিধসের ফলে নদীর উজানের কোনো অংশে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণেই সম্ভবত এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

তিব্বত-সংলগ্ন সীমান্ত শহরগুলোতে দুই মাস আগে আঘাত হানা এক ভয়াবহ বন্যার ধকল কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার মধ্যেই এই নতুন বন্যার ঘটনাটি ঘটল। সেই আগের বন্যায় ১,৪০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ৫,০০০ মানুষ নিখোঁজ হয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর